পানামার পর বিধ্বস্ত বলিভিয়া, রেকর্ড গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

somoyerkonthosorlllস্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – চলমান কোপা আমেরিকার আসরের গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনা তিনে তিন! তার মানে, তিনটি ম্যাচ খেলে সবগুলোতে জয় পেয়েছে জেরার্ডো মার্টিনোর দল। বুধবার সকালে (বাংলাদেশ সময়) বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

৩-০ গোলের জয় দিয়েই গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয় আর ১০ গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে গেল আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে এটাই সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড।

কোয়ার্টার ফাইনালে মেসি-আগুয়েরোদের প্রতিপক্ষ ‘সি’ গ্রুপের রানার্স-আপ ভেনেজুয়েলা।

টানা তিন ম্যাচ জেতায় পূর্ণ ৯ পয়েন্ট ঝুলিতে জমা পড়েছে আর্জেন্টিনার। অপর ম্যাচে পানামাকে (৪-২) হারিয়ে শেষ আটের খেলা নিশ্চিত করা চিলির অবস্থান দ্বিতীয়। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট সংখ্যা ৬। আর ১ ম্যাচে জয় পাওয়ায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে পানামা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। পয়েন্ট না পেয়েই আসর থেকে বিদায় নিয়েছে বলিভিয়া।

চলতি আসরে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে আর্জেন্টিনা। তাদের এই গতি থামাতে বলিভিয়ার শক্তি যথেষ্ট ছিল না। এটা পয়েন্ট টেবিল দেখেই অনেকটা অনুমেয়! আগের দুটি ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত করে রেখেছিল বলিভিয়া। বাকি ছিল আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে কোপা আমেরিকার ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের কড়া শাসনের স্বাদই পেয়েছে তারা। কারণ লড়াইটা ছিল একপেশে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের সেঞ্চুরি লিংক ফিল্ডে আগের চিত্রই দৃশ্যায়ন হলো। ম্যাচের শুরুর একাদশে নেই লিওনেল মেসি। কোচ মার্টিনো আগেই অবশ্য জানিয়ে দিয়েছিলেন ব্যাপারটা, এখনই দলের প্রাণভোমরাকে ম্যাচের সূচনালগ্নে নামাবেন না তিনি। তা ছাড়া দল কোয়ার্টারের খেলা নিশ্চিত করায় ইনজুরি শঙ্কায় থাকা মেসি কিংবা ডি মারিয়াকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েই বা লাভ কী?

আগের ম্যাচে পানামার বিপক্ষে মেসি নেমেছিলেন ম্যাচের ৬১ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। আদায় করে নিয়েছিলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। বুধবার বলিভিয়ার বিপক্ষে সেই সময়ের আগেই মাঠে নেমেছেন। ৪৬ মিনিটে এভার বানেগার বিকল্প হিসেবে খেলতে নামেন বার্সেলোনা সুপারস্টার। যদিও গোল আদায় করে নিতে পারেননি। তবে মাঠে তার উপস্থিতি মানেই তো দলে চাঙ্গা ভাব।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কোনো গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। যা করার তা আগেই (প্রথমার্ধে) করে রেখেছেন মার্টিনোর শিষ্যরা। কেননা মেসি-মারিয়াহীন আর্জেন্টিনার হাতেই লাগাম ছিল ম্যাচের শুরু থেকে। খেলার ১৩ মিনিটে মাথায় দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে নেন এরিক লামেলা (১-০)।

এর ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজিকুয়েল লাভেজ্জি। এ সময়ে গঞ্জালো হিগুয়েনের হেড রুখে দেন বলিভিয়ার গোলরক্ষক কার্লোস লাম্পে। তবে তার হাত থেকে বল ফসকে গেলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাভেজ্জি সেটি বলিভিয়ার জালে জড়িয়ে দেন (২-০)।

ম্যাচের ৩২ মিনিটের সময় ফের বল নিয়ে ছুটে আসেন লাভেজ্জি। সেটি বাড়িয়ে দেন ভিক্টর কুয়েস্তার দিকে। পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বলিভিয়ার জালে বলটি প্রবেশ করান তিনি (৩-০)। আর তাতে জয়ের পথটা প্রথমার্ধেই মসৃণ হয় আর্জেন্টিনার।