এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যত সুবিধা দেবার ঘোষণা রেল কতৃপক্ষের

সময়ের কণ্ঠস্বর

প্রতি বছরই ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেলওয়ে। এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আগামী ২২ জুন থেকে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ২২ জুন পাওয়া যাবে ১ জুলাইয়ের টিকিট। এছাড়া ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন পাওয়া যাবে যথাক্রমে ২, ৩, ৪ ও ৫ জুলাইয়ের টিকিট। বুধবার রেল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলথমন্ত্রী মুজিবুল হক এসব তথ্য জানান।

অগ্রিম টিকিট বিক্রি ছাড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে আরো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেগুলো হলো-

নতুন রেল সংযোজন : ঈদ উপলক্ষে রেলের পূর্বাঞ্চল ঢাকা-চট্রগ্রাম-ঢাকা একজোড়া নতুন বিরতিহীন আন্তঃনগর রেল চালু করা হবে।

আন্তঃনগর রেলের ছুটি প্রত্যাহার : ১ জুলাই থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর রেলের সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

বিশেষ ব্যবস্থাপনায় টিকিট বিক্রয় : ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টেশন থেকে ঈদ-পূর্ব অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি হবে।

ঈদ ফেরত অগ্রিম টিকিট : ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি হবে। ৪ জুলাই পাওয়া যাবে ৮ জুলাইয়ের টিকিট। এছাড়া ৫, ৬, ৭, ৮ জুলাই যথাক্রমে ৯, ১০, ১১, ১২ তারিখের টিকিট পাওয়া যাবে।

একজন যাত্রী সর্বাধিক ৪টি করে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন এবং বিক্রিত কোনো টিকিট ফেরত দেয়া যাবে না।

কোচ সংযোজন : পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ হতে ৮৬টি এমজি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ হতে ৮৪টি (৩৮টি এমজি ও ৪৬টি বিজি) মোট ১৭০টি (১২৪টি মিটারগেজ ও ৪৬টি ব্রডগেজ) কোচ সপ আউট-টার্ন হবে। বিদ্যমান ৬৯২টি কোচের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে ওয়ার্কশপে ১৭০টি কোচ মেরামত করে ৮৬২টি কোচ চলাচল করবে।

একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের বিলম্ব পরিহারে পরিকল্পনা : একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার সময় বিলম্বে চলাচল করলে পার্বতীপুর স্টেশনে ট্রার্মিনিটেড করা হবে। পার্বতীপুর–দিনাজপুর-পার্বতীপুরে ডেমু রেল চালু করা হবে।

লোকোমোটিভ সরবরাহ : বিদ্যামান লোকোমোটিভ সরবরাহ পূর্বাঞ্চলে ১০৩টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ৮০টিসহ মোট ১৮৩টি। এছাড়া পূর্বাঞ্চলে ১২টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ৩১টি লোকমোটিভ অতিরিক্ত সরবরাহ করা হবে।

টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ : রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবে জিআরপি আরএনবি, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাব। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

নাশকতা প্রতিরোধ : চলন্ত রেলে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বিশেষ রেল পরিচালনা : ঈদে ৭ জোড়া বিশেষ রেল চলাচল করবে।

এগুলো হলো-
দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল : ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, ৩-৫ জুলাই ও ৮-১৪ জুলাই।
চাঁদপুর স্পেশাল-১ ও চাঁদপুর স্পেশাল-২ : চট্রগ্রাম-চাঁদপুর-চট্রগ্রাম, ৩-৫ জুলাই ও ৮-১৪ জুলাই।
পার্বতীপুর স্পেশাল : পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর, ৩-৫ জুলাই ও ৮-১৪ জুলাই।
সোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার, ঈদের দিন (৬ জুলাই) এবং
সোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়নমনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ, ঈদের দিন (৬ জুলাই)।

ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেল ভবনে কন্ট্রোলরুম থাকবে।