রানা-পীযুষদের ‘আবদার পুরোপুরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা’

145033_1

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- জাতিকে ছোবল দিতে সাম্প্রদায়িক ভুজঙ্গরা ফণা তুলছে মন্তব্য করে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার জন্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করার জন্যে রানা দাশগুপ্ত ও পীযুষ বন্দোপাধায় যে আবদার করেছেন তা পুরোপুরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

রানাদাশ-পীযুষদের খুঁটির জোর কোথায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এটা গোটা জাতিকে ছোবল দিতে সাম্প্রদায়িক ভুজঙ্গদের ফণা তোলারই বহিঃপ্রকাশ। মনে হয় তারা বাংলাদেশকে দিল্লির ‘সুবে বাংলা’ মনে করে।’

বুধবার এক বিবৃতিতে মাওলানা নেজামী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে এ ধরনের উক্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটা সিন্ডিকেটিভ বক্তব্য। বাংলাদেশ ইসলাম, মুসলমান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক শ্রেণির লোকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির ধারাবাহিকতা মাত্র।’

নেজামী বলেন, ‘এখন এটা স্পষ্ট যে, এ ধরণের আবদারের প্রেক্ষিত ও আবহ সৃষ্টির জন্যেই হয়ত কয়েকজন হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে।’

আইওজে চেয়ারম্যান বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একশ্রেণির লোকদের এ ধরনের বক্তব্যের উদ্দেশ্যে হচ্ছে দেশ বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্যে সংক্ষুদ্ধ জনতাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রতিপন্ন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।’

রানা-পীযুষদের বিশ্বাসঘাতকদের উত্তরসূরি অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘রানাদাশ ও পীযুষদের সাথে রয়েছে বিশ্বাসঘাতক ও ভারতের সম্প্রসারণবাদী নীলনকশা বাস্তবায়নের পক্ষের দালাল কালী দাশ বৈদ্য।’

এর আগেও এমন দেশদ্রোহী মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু এবারই এসব কথা বলেনি। এর আগেও তারা এমন দেশদ্রোহী মন্তব্য করেছে। কিন্তু তাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে শতাংশ সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দুরা ৫/৬ শতাংশের বেশি নয়। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি চাকরীর ক্ষেত্রে হিন্দুরা যে ৩০ শতাংশের বেশি তা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের কথা থেকে আঁচ করা যায়।’

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুরা নিরাপদ। দেশ ও ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তির ভয়ংকর পরিস্থিতিতে বিচলিত জনগণ সংখ্যালঘুদের সাথে সদ্ব্যবহার ও ভ্রাতৃত্বসূলভ আচরণের মাধ্যমে ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অম্লান রেখে চলেছেন। কেননা ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাসে অনুপ্রাণীত লোকজন প্রতিশোধ স্পৃহা চরিতার্থ করার কাজে অবতীর্ণ হতে পারেন না।’

মাওলানা নেজামী বলেন, ‘দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দাবিদার একটি সরকার ক্ষমতাসীন থাকার পরও সংখ্যালঘু নেতারা কিভাবে দেশের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন এমন জঘন্য ও লাগামহীন উক্তি করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। অথচ কথায় কথায় অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে অহরহ।’

এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের বিজেপি, হিন্দু মহাসভা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সুরে কথা বলতে প্রবৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীন কোনো জাতীয়তাবাদীই রেহাই পাবেন না।’