প্রকৃতির এক অদ্ভুত রহস্য ‘ভালোবাসার সুড়ঙ্গ’

13444404_999899030123836_798906464_nসময়ের কণ্ঠস্বর, জানা- অজানা ফিচার ডেস্ক-

প্রকৃতি মাঝে মাঝেই আমাদের চমকে দেয় নিজের সৃষ্টি দিয়ে। এই ধরুন, সুড়ঙ্গ মানেই আমাদের মনে হয় মাটির নীচের গোপন কোনো রাস্তা। না, মাটির নিচ দিয়ে কিংবা পাহাড় এর মাঝ দিয়ে যাওয়া কোনো রাস্তা নয় বরংন সুড়ঙ্গ হতে পারে ভালোবাসারও। ভালোবাসার সুড়ঙ্গ নামের এই সুড়ঙ্গে প্রকৃতি ও ভালোবাসা মিশেছে এক অপুর্ব নান্দনিকতায়। তাই এই সুড়ঙ্গকে অভিহিত করা হয় “টানেল অব লাভ” হিসেবে।

৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটি ইউরোপের ইউক্রেন এর ক্লেভান শহরে অবস্থিত। এই সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে ভারী শিল্প পরিবহনের জন্য বয়ে চলেছে এই ট্রেন লাইন। প্রকৃতির নিজের হাতেই তৈরি বলেই কিনা সহসা এটিকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এ মাঝ দিয়ে চলে গেছে ট্রেন লাইনটি।

বেশ কয়েকবছর আগেই এই যায়গায় ট্রেন চলাচলের জন্য একটি রাস্তা বানানো হয়। সে সময় অবশ্য এরকম সুড়ঙ্গ ছিলো না। জঙ্গল ঘেরা পরিবেশের মাঝে ট্রেন চলাচলের জন্য রাস্তাটি বানানো হয়। ট্রেন লাইনের দুইধারে বেশ কিছু ফ্লোরা ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিলো তখন। সেই গাছগুলোই ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। একপাশের গাছগুলো আরেকপাশের গাছের সাথে অর্ধবৃত্তাকার ভাবে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ঠিক যেনো ভালোবাসার আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেছে একে অপরকে। মূলত এই কারণেই সুড়ঙ্গটিকে “টানেল অব লাভ” বলা হয়ে থাকে।

এই সুড়ঙ্গটি সুন্দরভাবে ছেঁটে রাখা হয়। কেননা ওডেক প্লাইউড কারখানা ইউক্রেন থেকে বার্চ গাছ এর পাতলা পাতলা প্যনেল তৈরি করে ক্লেভান রেলওয়ে জংশন থেকে এই ট্রেন লাইন বরাবর তা নিয়ে যায় পশ্চিম ইউরোপের বাজারে তা সরবরাহের জন্য। তাই এই টানেলটি কখনো ঘন জংলায় পরিণত হয় না।

ঋতুভেদে রুপ পরিবর্তন করে এই প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গটি। শীতকালে টানেলটি ঢেকে যায় বরফে। আবার বসন্ত কালে দেখা যায় ঘন সবুজের সমারোহ। এসময়ে টানেলটিকে দেখে মনে হয় ঠিক যেনো একটি সবুজ দূর্গ। আবার গ্রীষ্মকালে আরেক রূপে আবির্ভূত হয় সুড়ঙ্গটি। চারপাশের পরিবেশ থাকে শুষ্ক, পাতাহীন। ঋতুভেদে নতুন নতুন রুপে আবির্ভুত হওয়ার কারণে পর্যটকদের বেশ কাছে টানে এই “টানেল অব লাভ”

“ভালোবাসার সুড়ঙ্গ” তথা “টানেল অব লাভ” নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত আছে ইউক্রেনবাসীর মধ্যে। কথিত আছে যে ভবিষ্যতের কোনো ইচ্ছায় সৎ মানসিকতা নিয়ে এই সুড়ঙ্গ পারি দিলে সেই মনোবাসনা পুর্ন হয়। তাই নিজেদের মনোবাসনা পুর্ন করার উদ্দেশ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুগলেরা এখানে আসেন। অনেকেই একে অপরের হাত ধরে মনের মাঝে গভীর ভালোবাসা নিয়ে হেটে হেটে পারি দেন এই সুড়ঙ্গটি।

ইউক্রেন এর ব্যাপক জনপ্রিয় এই সুড়ঙ্গটিতে প্রায়ই বিভিন্ন দম্পতিরা আসেন। তবে এখানকার পর্যটক এবং ট্রেন অপারেটর দের সতর্ক থাকতে হয় এখান দিয়ে চলাচলের সময়। ট্রেন চলাচলের রাস্তা হওয়ার কারণে যেকোনো সময় চলে আসতে পারে ট্রেন। কিছু বছর আগে ৩৮ বছর বয়ষ্ক এক জাপানী নারী সুড়ঙ্গে ট্রেন দ্বারা তাড়িত হয়েছিলেন। অল্প আঘাতও পেয়েছিলেন।

তবে এটি ছিলো নিছকই একটি দুর্ঘটনা। এখানে ট্রেন দেখা যায় কদাচিৎ। ট্রেনের দেখা না মিললেও এখানে নানান মনোবাসনা নিয়ে ঘুরতে আসা যুগলদের দেখা ঠিকই মিলবে। চাইলে আপনিও আপনার সঙ্গী/ সঙ্গীনি কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন “লাভ অব টানেল” থেকে।

উইকিপিডিয়া এবং এমিউজিং প্ল্যানেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, রাফিদুল হাসান।