আপনার ছোট্ট শিশুর ঘর হোক তার স্বপ্নের রাজ্য!

13474191_999923656788040_600224102_nসময়ের কণ্ঠস্বর, লাইফস্টাইল ফিচার , সম্পাদনা- আফসানা নিশি
বাচ্চাদের ঘর কিভাবে সাজানো যায় তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন সকল বাবা না। বাসা হোক বা ফ্ল্যাট, বাচ্চাদের জন্য চাই আলাদা একটা ঘর। যত্নে আর ভালবাসায় সাজানো।
বাচ্চার ঘর বলে কথা, সেটা তো যেমন তেমন করে সাজানো যায় না। মনের মাধুরি থেকে যত্ন সহকারে সাজাতে হবে সেই ঘর। ঘরের রঙ থেকে শুরু করে নজর দিতে হবে পাপশ পর্যন্ত। প্রতিটা জিনিস হওয়া চাই বাচ্চার পছন্দ সই। বাচ্চাদের ঘর হওয়া উচিত বড়,পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে এমন। রাস্তার দিকের বারান্দা যুক্ত ঘরটি নির্বাচন করুন আপনার সন্তানের জন্য। ঘরের রং বাছাই করা অনেক জরুরি। বাচ্চারা গোলাপি, লাল, নীল রঙ অনেক পছন্দ করে। তাই ঘরের দেওয়ালে করতে পারেন গোলাপি রঙ। একজন ভাল পেইন্টার দিয়ে গোলাপি রঙের উপর নীল রঙ দিয়ে পেইন্টিং করে নিতে পারেন। ডিজাইনটা হতে পারে নীল পোশাকের সিনড্রেলা বা ফ্রোজেন ইলসা। হতে পারে কোন ফুল বা কার্টুন। বাজারের অনেক ধরনের ওয়াল স্টিকার পাওয়া যায়, ইচ্ছে হলে সেগুলো লাগাতে পারেন।
ঘরের এক পাশে রাখুন বিছানা বা খাট। খাটের পাশে মানানসই ছোট টেবিল। টেবিলের উপর রাখুন ল্যাম্প সেট। বাজারে হ্যালো কিটি,মিকি মাউচ,ডোরেমন কার্টুন ল্যাম্প সেট পাওয়া যায়। ঘরের রঙ বা পেইন্ট রঙের সাথে মিল রেখে কিনে নিতে পারেন গোলাপি হ্যালো কিটি বা নীল ডোরেমন ল্যাম্প সেট।
বাচ্চার বিছানার চাদর ও বালিশের কভারে আনুন নতুন ঐতিহ্য। আপনার সন্তানের পছন্দ হতে পারে নীল কালারের চাদরের উপর গোলাপি প্রিন্সেস অরোরা বা গোলাপি কালারের চাদরের উপর নীল প্রিন্সেস সিনড্রেলা।

ঘরের এক কোনে রাখুন ওয়াল শেলফ। শেলফে রাখতে পারেন বিভিন্ন গল্পের বই। আলাদা আলাদা তাক করে রাখতে পারেন ক্লাস বুক, গল্পের বই, কার্টুন সিডি। বাচ্চার খেলনাগুলোও সাজিয়ে রাখার জন্য জরুরি ওয়াল শেলফ। হয়তো দেখবেন খেলা শেষে আপনার বাচ্চা নিজেই তার খেলনাগুলো যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছে। ওয়াল সেলফের নিচে ড্রয়ার করতে পারেন। বাচ্চার জামা,জুতা সেখানে রাখা যাবে। এতে ঘর সাজানো থাকবে। বিভিন্ন জিনিসের জন্য আলাদা জায়গা দরকার হবে না। একটা ওয়াল শেলফে সব রাখতে পারলে ঘরে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকবে যেখানে আপনার বাচ্চা স্বাচ্ছন্দে খেলা করতে পারবে। তাছাড়া একটি শেলফে সব রাখলে আপনার বাচ্চা সহজে সব কিছু খুঁজে পাবে।

ওয়াল শেলফের পাশে থাকবে পড়ার টেবিল। টেবিলে রাখুন সুন্দর একটি টেবিল ঘড়ি।

ছোটখাটো খেলনাগুলো বিছানার উপর, টেবিলের পাশে, শেলফের এক তাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন যেনো ঘরটা পুতুল ঘরের মতো সুন্দর দেখায়। ঘরের একে কোণে রাখুন কর্ণার শেলফ। সেখানে রাখুন সুন্দর কিছু মিউজিক্যাল ডল বা সো পিস। এগুলো যেমন বাচ্চার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তেমনি অবসরে ডলগুলো হতে পারে আপনার বাচ্চার খেলার সাথী। ঘরের খাট, টেবিল, চেয়ার, কিনতে পারেন কোন কিডস ফার্নিচারের দোকান থেকে। সে জন্য ঘুরে দেখতে পারেন বসুন্ধরার কিডস প্যারাডাইজ। ওখানে আপনার ও বাচ্চার পছন্দ মতো বিভিন্ন কালারের ফার্ণিচার পাবেন।
ঘরের রঙ যদি হয় নীল বা গোলাপি তবে ফার্ণিচার কিনুন হালকা নীল রঙের। লাল রঙের ঘরের জন্য কিনতে পারেন সবুজ রঙের ফার্নিচার। তবে লাল রঙ না করাই ভাল। এই রঙটা ঘরের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয় এবং ঘর দেখতে অনেক ছোট লাগে।
দরজার সামনে রাখুন সুন্দর একটি ডোর বেল। দু’পাশে রাখুন ফুলের টব। হতে পারে সেটা অর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার বা নেচারাল গোলাপ। পাপশটা রাখুন নরম তুলার কার্টুন ডিজাইনার। এগুলো ঘরে প্রবেশের সময়ই মনকে খুশি করে দেবে।
সব শেষে বলি বারান্দার কথা। বারান্দার রেলিং এ জড়িয়ে লাগাতে পারেন লতাপাতা যুক্ত কোন গাছ। সেখানে ফুটে থাকা ফুলগুলো বারান্দাকে অকর্ষনীয় করে তুলবে। বাচ্চারা যেহেতু ফুল অনেক পছন্দ করে তাই তারাও খুব খুশি হবে। একপাশে রাখুন ছোট্ট চেয়ার টেবিল। যান্ত্রিক শহরের বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট হলে বিকেলে আপনার বাচ্চা বারান্দার চেয়ারে বসে রাস্তার মানুষগুলোকে দেখে খুশি হবে। বারান্দার গাছগুলোর যত্ন নিবে মনের আনন্দে। বসে গল্প করতে পারে পাশের ফ্লাটের বাচ্চাটার সাথে।
তাছাড়া বাচ্চারা আঁকাবুকি করতে পছন্দ করে। তাই বারান্দার এক দেওয়ালে লাগিয়ে দিতে পারেন হাল্কা কালারের ফরমিকা, যাতে যখন তখন আঁকাবুকি করে আবার মুছেও ফেলা যাবে। ল্যাম্প সেট ছাড়াও ঘরে রাখুন হাই পাওয়ারের বাল্ব,যেটা রাতের অন্ধকার কাটিয়ে আপনার বাচ্চার ঘর করবে ঝলমলে। ঝুলিয়ে রাখতে পারের ডার্ক লাইটিং স্টার/ফ্লাওয়ার। এগুলো অন্ধকারে লেড লাইটের মতো হালকা আলো ছড়াবে।
এই তো হয়ে গেলো প্লানিং।এখন ঝটপট সাজিয়ে ফেলুন আপনার বাচ্চার ঘর।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views