দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের অন্যতম মাথা বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউল হক

Untitled-1

সময়ের কণ্ঠস্বর –   ২০১২ সালে যাকে সেনা অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। গত ৪ বছর ধরে পলাতক থেকে এই বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদে অন্যতম মাথা হিসেবে কাজ করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে। জিয়াকে ধরতে অসংখ্যবার অভিযান হয়েছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব অভিযানই ব্যর্থ হয়েছে। কিছু দিন আগে দেশে ধারাবাহিক হত্যাকা- বন্ধে করণীয় বিষয়ে সব গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা হয় সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে। ওই সভাতেই বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হকের নাম উঠে আসে।

জানা গেছে, সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক এবং তার বন্ধু ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদকে ধরতে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তারা পলাতক অবস্থায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে এক দেশ থেকে যেন আরেক দেশে যেতে না পারেন সে জন্য ৪ বছর আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে। ব্যবসায়ী ইশরাকের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য নেই। তবে ১৬ মাসে দেশে সংগঠিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং জেএমবির ৪৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তদন্তকালে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশ কয়েকটি ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের সেলফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড পর্যালোচনা, ইমেইল অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে জানতে পারে এসব হামলার পেছনের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন জিয়া। এরপরই তাকে ধরতে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা। জিয়া বিশেষ কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় বারবারই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হচ্ছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রগুলো বলছে, ২০১৩ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানী গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই নিষিদ্ধ সংগঠনের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে জিয়ার নাম বেরিয়ে আসে। তখন জেএমবির একাংশের সঙ্গে এই বহিষ্কৃৃত সেনা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্যপ্রমাণ পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই থেকেই পলাতক জীবনযাপন করছেন জিয়া। তার সঙ্গে পাকিস্তানে নিহত আরেক জঙ্গি নেতা এজাজের সঙ্গেও যোগাযোগের তথ্য মেলে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, বেশ কয়েকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও জিয়ার যোগাযোগ থাকার তথ্য রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে এই বহিষ্কৃত সেনা কর্মকর্তা নিকট আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না। ছদ্মবেশে চলাফেরা করেন। এক জায়গায় বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না। এসব কারণে তাকে ধরা যাচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা জানান।

সুত্র – আমাদের সময়