বিশ্বনেতারা আমার কাজের মূল্যায়ন করছেন: প্রধানমন্ত্রী

145037_1সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বনেতারা তার কাজের মূল্যায়ণ করছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা ও বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বনেতারা এই কাজের মূল্যায়নটাই করছেন।’

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই অধিবেশন শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাপ্য সম্মানের কৃতিত্ব জনগণকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সম্মান পাচ্ছি, সেটা আমার নয়, বাংলাদেশের জনগণের সম্মান। এ জন্য জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে বলেই আমি আজকে এই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’

জাতীয় পার্টির সদস্য নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী বাংলাদেশের ভূমিকা ও সফলতার প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তারা সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ এখন এমন একটি বিষয় যা আন্তর্জাতিক বা দ্বিপাক্ষিক যে কোন আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এজেন্ডার বাইরেও চলে আসে। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের যে কঠোর ও জিরো টলারেন্স অবস্থান রয়েছে তা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জানে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হলেও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিশ্বের যেকোনো দেশের সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবাদ দমন করা সম্ভব।

সরকারি দলের সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ এশিয়ায়ও বিস্তৃতি লাভ করেছে, যা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ। এরূপ বাস্তবতায় নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কোলকাতায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেয়া রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে সর্বপ্রথম দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আঞ্চলিক কূটনীতির যে ধারণা তুলে ধরেন, তাতে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি দারিদ্রমুক্ত শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক এটি আমার আন্তরিক প্রত্যাশা। আমরা চাই প্রতিবেশীদের মধ্যে নিষ্ফল সংঘাতমূলক বৈরিতার চির অবসান হোক। আমাদের জাতীয় সম্পদ লক্ষ্যহীনভাবে অপচয় না করে বরং আমাদের জনগণের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে তা ব্যবহৃত হোক। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, দক্ষিণ এশিয়াকে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে পাশাপাশি বসবাস করার ক্ষেত্রে আমরা সবার সঙ্গে সহযোগিতা করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযদ্ধের মূল চেতনা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশ গড়া। মুক্তিযুদ্ধের এ চেতনার বিস্তৃতি ঘটিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াকেও একটি দারিদ্রমুক্ত, শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।