ভারতের জন্য উন্মুক্ত হলো বাংলাদেশের নৌবন্দর

145116_1

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ ট্রানজিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান ফিতা কেটে শুল্কযুক্ত নৌ ট্রান্সশিপমেন্টের মালামাল খালাসের কাজ উদ্বোধন করেন। এর ফলে প্রথমবারের মতো শুল্ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় পণ্য পৌঁছবে।

২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত (পিআইডব্লিউটিটি) চুক্তির অংশ হিসেবে এই ট্রান্সশিপমেন্টের উদ্বোধন হলো।

এর আগে ভারত বাংলাদেশ নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় ট্রান্সশিপমেন্টের ১০০০ টন স্টিল সিট নিয়ে বুধবার বিকেলে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছে এমভি নিউটেক -৬ নামক একটি কার্গো জাহাজ। গত ৩ জুন এটি ভারত থেকে রওয়ানা হয়ে ৭ জুন বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেছিল।

দুদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট চালু হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রানজিটকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে তেমন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। একটি ভাঙাচোরা পাকা ঘাট আছে। এমনকি পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য নেই কোনো ক্রেন; মাথায় করেই পণ্য ট্রাকে তোলা হয়। ঘাট এলাকায় একটি ছোট গুদাম ও দুটি কামরা থাকলেও সেখানে কেউ অফিস করেন না। ঘাট থেকে মূল সড়কে যাওয়ার জন্য আধা কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি ভাঙাচোরা ও সরু; কোথাও কোথাও কাদা আর জলাবদ্ধতা। গতকাল বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

১৯৭২ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ট্রানজিটের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এরপর ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ট্রানজিটের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। তবে ফি নির্ধারণ, অবকাঠামো দুর্বলতাসহ নানা সমালোচনার কারণে ট্রানজিট নিয়ে কেউ আর এগোয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৌ প্রটোকল চুক্তিতে বন্দর ব্যবহারের বিধান না থাকায় ভারতকে এতদিন তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এলে এই চুক্তি সংশোধন করে বাংলাদেশ। এরপর গত বছর দিল্লিতে মাশুল নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মূলত এরপর থেকেই ট্রানজিটের বিষয়ে ভারত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বেশি।

সর্বশেষ দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে ট্রানজিটের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের চেন্নাই, কৃষ্ণপত্তম, বিশাখাপত্তম, কাশিনাদা, প্যারা দ্বীপ, হলদিয়া ও কলকাতা নৌবন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়বে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা, খুলনা, পায়রা, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও ও আশুগঞ্জ বন্দরে। বন্দর থেকে পণ্য খালাস হলে বাংলাদেশি ট্রাক সেই পণ্য নিয়ে যাবে ভারতে।