চাঞ্চল্যকর দুই সন্তান হত্যায় সেই মায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট

bonossriসময়ের কণ্ঠস্বর – রাজধানীর বনশ্রীতে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে সাড়ে তিন মাসের মাথায় মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক লোকমান হেকিম চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে জেসমিনকে বিনা প্ররোচনায় ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসাবে অবহিত করা হয়েছে।

ছেলে-মেয়েকে হত্যার অভিযোগে জেসমিনের স্বামী আমান উল্লাহ বাদী হয়ে গত ৩ মার্চ তার স্ত্রীকে আসামি করে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর গত ৪ ও ৯ মার্চ দুই দফায় পাঁচ দিন করে তার দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

১৩ মার্চ মা মাহফুজা দুই সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাহফুজা বলেছিলেন, আমি আমার দুই সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করেছি। ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা জীবন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি হতাশায় ভুগছিলাম আর এই কারণেই তাদের খুন করেছি।

মাহফুজা আরো বলেন, আমার মেয়ে নুসরাত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (প্রধান শাখা) পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত আর হলি ক্রিসেন্ট (ইন্টারন্যাশনাল) স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারিতে পড়ত ছেলে আলভী। সন্তানদের স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম আমি। এই দুশ্চিন্তা থেকেই ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রথমে মেয়ে নুসরাতকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি।পরে ছেলে আলভিকে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি। হত্যার পর আমার সন্তানদের লাশের সামনে কিছু সময় কান্নাকাটি করি এবং স্বামী ও অন্যান্যদের খবর দেই।

প্রসঙ্গত, বনশ্রীর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে দুই ভাইবোনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বজনেরা দাবি করেন, রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশ ঢাকা মেডিক্যালে রেখে তাদের বাবা-মা জামালপুর শহরের ইকবালপুরে তাদের নানাবাড়িতে চলে যান। পরদিন লাশের ময়নাতদন্তে দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পান চিকিৎসকরা।

নুসরাত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (প্রধান শাখা) পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। হলি ক্রিসেন্ট (ইন্টারন্যাশনাল) স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারিতে পড়ত আলভী।

দুই শিশু নুসরাত আমান (১২) ও আলভী আমানের (৬) লাশ ঘটনার পরদিন রাতে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে দাফন করা হয়েছে।