‘টুটুল হত্যা প্রচেষ্টা হামলায় ৫ জনের প্রত্যেকের হাতে চাপাতি ছিল’

photoসময়ের কণ্ঠস্বর – শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদুর রশিদ টুটুল হত্যা প্রচেষ্টা হামলায় পাঁচজন অংশ নেন। এদের প্রত্যেকের হাতে চাপাতি ছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২ টার সময়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার সময়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার ওভারব্রিজের পাশের বাসস্ট্যান্ড থেকে আহমেদুর রশিদ টুটুল হত্যা চেষ্টা ঘটনায় সরাসরি জড়িত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. সুমন পাটোয়ারী ওরফে সাকিব ওরফে সিহাব ওরফে সাইফুল (২০)।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আহমেদুর রশিদ টুটুল হত্যার হামলার পরে উত্তর বাড্ডার সাতারকুলের ৫৭৭ নম্বর বাড়িতে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের ছয় নম্বর রোডের আট নম্বর বাড়িতে একটি বোমা তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সাতারকুলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনাকালে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যদের সাথে গুলি বিনিময় হয়। এতে গোয়েন্দা বিভাগের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। তখন দুই আনসারুল্লাহ বাংলাটিম সদস্যদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে দক্ষিণখানে সদরদার পাড়ার ২৪২ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্লাট থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন সময়ে আরো পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়াও গত ১৩ জুন চট্রগ্রাম অঞ্চলের আরো দুই আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দুই শীর্ষ নেতাদের দেওয়া তথ্য মতে গতরাতে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সুমন পাটোয়ারী আহমেদুর রশিদ টুটুলের মাথায় তিনবার আঘাত করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। উক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) চলতি বছরের ১৯ মে দুই লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষনা করেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুমন পাটোয়ারী চট্রগ্রামের একটি কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরি করতেন। গত বছরে তাকে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম তাকে রিক্রুট করে। এরপর তাকে মহাখালীর একটি বাসা ভাড়া করে তাকে দেড়মাস ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম ও প্রধান সম্মনয়কারী হলো মোহাম্মদ শরীফ। মূলত এটাই সুমনের কোন প্রথম অপারেশন। আহমেদুর রশিদ টুটুলের উপর হামলার পরে তিনি পুনরায় চট্রগ্রামে গিয়ে চাকুরিতে যোগদেন। তাকে মূলত প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সেলিম ও শরীফ। সেলিম ও শরীফ আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের তৃতীয় শ্রেণীর নেতা। তার উপরে রয়েছেন সামরিক কমান্ডার এবং তার উপরে রয়েছেন অদৃশ্য নেতা। আহমেদুর রশিদ টুটুলের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন শরীফ ও দীপনের হামলার নেতৃত্ব দেন সেলিম বলেও জানান মো. মনিরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার শুদ্ধস্বর প্রকাশনার অফিসে প্রকাশক আহমেদুর রশিদ টুটুল ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফির দীপনের উপর হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংঘঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম।