সোনামসজিদ স্থল বন্দরে ফল আমদানি কার্যক্রমে ধস

s


কামাল হোসেন, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ত্রুটিপূর্ণ নির্দেশে কারণে স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে কোন কোন বন্দরে সর্বনাশ হচ্ছে আবার কোন কোন বন্দরের পৌষ মাস শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত থেকে একটি ট্রাকে মিশ্র (মিক্স) ফল জাতীয় পণ্য আনতে পারবে না। ২০০৫ কমিশনার কাস্টমস রাজশাহী দপ্তর থেকে আবদুল মান্নান পাটুয়ারী কমিশনার কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত এরকম একটি নির্দেশনা পত্র দেওয়া হয়েছিল সোনামসজিদ বন্দরে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে কাস্টমস রাজশাহী সুলতান মাহমুদ ইকবাল একই নিয়মের আরও একটি পত্র দেন সোনামসজিদ, হিলি, বুড়িমারী, বাংলাবান্দা, বিরল ও রহনপুর স্থলবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তাকে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ট্রাকে কোন মিক্স ফল জাতীয় পণ্য আসছে না।

কোন সময় যদিও কোন কোন সময় মিক্স ফল জাতীয় পণ্য সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা যে ফলের রাজস্ব বেশি সেই মোতাবেক একই ট্রাকে থাকা অন্যান্য ফলেও রাজস্ব আদায় করে থাকেন। ফলে ফল আমদানী কারকরা মারাতœক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা মিক্স করে কোন ফল আমদানী করতে পারে না। অপরদিকে ভোমরা স্থলবন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই ধরণের কোন পত্র না থাকায় সেখান দিয়ে অনাসেই আসছে ভারতীয় ট্রাকে মিক্স ফল জাতীয় পণ্য। জানা গেছে, আঙ্গুর ফল আমদানী করে কমলার রাজস্ব দিয়ে পণ্য ছাড় করা হচ্ছে।

আমদানীকৃত অঙ্গুরের প্রতি টনের রাজস্ব প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। কমলার রাজস্ব প্রতিটন ২৯ হাজার টাকা। ফলে একটি ট্রাকে প্রতিটনে ১০ হাজার টাকা করে রাজস্ব ফাঁকি যাচ্ছে সরকারের। কোন কোন সময় ভোমরা বন্দরে একটি ট্রাকে ১০ টন আঙ্গুর ৪ টন কমলা এনে ২ টন আঙ্গুরের রাজস্ব আদায় করে বাকিগুলো কমলা ফলের নিয়ম অনুসারে রাজস্ব আদায় করে থাকে বলে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সদস্যদের অভিযোগ রয়েছে। আমদানীকৃত ফলের ক্ষেত্রে একই নিয়মনীতি সকল স্থলবন্দরে না থাকায় কোন কোন বন্দরে সুযোগ নিয়ে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে কাস্টমস কর্মকর্তা, সিএন্ডএফ এজেন্টদেরা।

এ ব্যাপারে কাস্টমস এর একজন সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারত থেকে একই ট্রাকে মিক্স করে ফল জাতীয় পণ্য আমদানী করলে আমদানী করলে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ নিয়ে থাকে সিএন্ডএফ এজেন্টেরা। তিনি আরও জানান, দেশের সকল বন্দরগুলিতে ফলসহ বিভিন্ন মিক্স পণ্য ভারত থেকে নিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একই ধরণের নির্দেশনা থাকলে কোন স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকির কোন সুযোগ পাবে না। কিন্তু এক বন্দরে ভারত থেকে ফল আমদানী ক্ষেত্রে বিভিন্ন বন্দরে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।

সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপক হারে ভারত থেকে একই ট্রাকে বিভিন্ন ধরণের ফল আমদানী করে (আঙ্গুর এনে কমলার রাজস্ব দিয়ে ছাড় করা হচ্ছে ওই সব ফলের গাড়ী)।

গেল দেড় মাস থেকে সকল প্রকার ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে মে মাসে মাত্র ৩টি লিচু ফলের গাড়ি এ বন্দর প্রবেশ করেছে। ফলে উত্তর অঞ্চলে ৩টি বন্দর দিয়ে ফল আমদানী কমে যাওয়ায় গেল ফেব্র“য়ারী মাস থেকে রাজস্ব আয় কমে গেছে। সোনামসজিদ স্থল বন্দরে ফল আমদানী কমে যাওয়ায় নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসের চেয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আয় কমে গেছে। গত ফেব্র“য়ারী মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।

সোনামসজিদ স্থল বন্দরে কাস্টমস ও অন্যান্য সংস্থার রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকা স্বত্বেও গত ফেব্র“য়ারী মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬০ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। স্থল বন্দরে দায়িত্বরত একজন কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে একই ট্রাকে মিক্স ফল না আসায় রাজস্ব আয় কম হয়েছে। সহকারী কমিশনার কাস্টমস জানান, এখানে কাস্টমস বিভাগ সরকারী বিধি-বিধান মোতাবেক রাজস্ব আদায় করে থাকে।