ইনুকে ঘিরে জাসদ বিতর্ক: আশরাফের বক্তব্যে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

iun_asraf_somoyerkonthosor

সময়ের কণ্ঠস্বর – গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) ছাত্রলীগের এক সভায় জাসদ ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারক-বাহকরা ‘১০০ ভাগ -ভ’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম । তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছাত্রলীগের একটা অংশ হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নিয়ে আসে। এর ধারক-বাহকরা দেশটাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। পরে জাসদ নামে নতুন দল গঠন করে। তিনি বলেন, জাসদ থেকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগকে ‘আজীবন প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে’।

গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে রাজনীতির আলোচনার বিষয় ছিল এটি। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের নেতারা সৈয়দ আশরাফের এ ধরনের বক্তব্যে দলের ঐক্য বিনষ্ট করবে বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত’ বললেও সংসদে বিরোধী দলের এক নেতা সুর মিলিয়েছেন সৈয়দ আশরাফের সঙ্গেই।

এদিকে জাসদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে জড়িয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয় নিয়ে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

এরপর গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পরিবেশ অন্য রকম ছিল বলে বোর্ডের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও তার কাছে কিছুই জানতে চাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বৈঠকের আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ মুহূর্তে এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়েছে কি-না জানতে চান। এ সময় উপস্থিত নেতাদের অনেকেই তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারে জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব মন্ত্রী ছিলেন। এখন মন্ত্রিসভায় আছেন হাসানুল হক ইনু। তাই বক্তব্য দেওয়ার আগে ভাবতে হবে_ কে, কখন, কোথায়, কী বক্তব্য দিচ্ছেন।

এর জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী ছাত্রলীগের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান নেতাদের অনেকের মধ্যে ধারণাগত ভ্রান্তি রয়েছে বলেই তিনি জাসদ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ইতিহাসের সত্যটাই বলেছেন। এ সময় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম; শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কাজী জাফর উল্লাহ ও রাশিদুল আলম।

এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাদের জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে ঐক্যের প্রয়োজনে জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এখন জঙ্গি তৎপরতা ও গুপ্তহত্যার প্রেক্ষাপটে আরও ঐক্য জরুরি। এ অবস্থায় ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

এক পর্যায়ে দলের নেতাদের কাছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের কারণ জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক পর্যায়ে হাঁসি হাঁসি মুখেই বলেন, মাহবুবউল আলম হানিফের পরামর্শেই জাসদ ও হাসানুল হক ইনুকে জড়িয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বক্তব্য দিয়েছেন কি-না।

প্রসঙ্গত, এর আগে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জাসদের সমালোচনা করেছিলেন। তখনও বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ থাকলেও এ জোটের শরিক দল এবং শীর্ষ নেতাকে জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ায় কিছুটা হলেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

নানামুখী আলোচনার মধ্যে এদিকে গতকাল সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লন্ডন সফরে গেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকা নিয়ে আগামী ২৩ জুন অনুষ্ঠেয় গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।