সরকার দলীয় দুই এমপি পকেটমারের খপ্পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়!

1399-1000x1000

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি– ঝিনাইদহে তিন মন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরকারি দলের দুই এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা পকেটমারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে ঝিনাইদহে টক অব দি টাউনের পাশাপাশি ফেসবুকে একটি লেখা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বাবুল আজাদ নামে আওয়ামীলীগ সমর্থিত এক ঠিকাদার তার ফেসবুকে ঝিনাইদহের দুই এমপি আব্দুল হাই ও আনোয়ারুল আজিম আনারসহ নেতাদের পকেটমারের ঘটনাটি উল্লেখ করে চোর ধরে টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের জাঁদরেল তিন মন্ত্রীও।

ফেসবুকে বাবুল আজাদ লিখেছেন “১৪ জুন ৩ জন মন্ত্রী মোঃ নাসিম, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এসেছিলেন ঝিনাইদহ করতিপাড়া আনান্দ গোপাল গাঙ্গুলীর শোক সভায়। এই স্থান থেকে আমার প্যান্টের পকেট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পকেটমাররা নিয়েছে। এমপি মোঃ আব্দুল হাই ভাইয়ের মানিব্যাগসহ টাকা, কালিগঞ্জের এমপি আনার ভাইয়ের মোবাইল ফোন, শৈলকুপা দুদসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোয়েব জর্দ্দারের উনপঞ্চাশ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন পকেট মেরে নিয়েছে। আমি ঝিনাইদহ জেলা পুলিশকে অনুরোধ করবো যে আপনারা সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ নিয়ে এই সব চোরদের ধরুন। টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করার ব্যবস্থা করুন।’ বাবুল আজাদের ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে নানা রকম রসাত্মক মন্তব্যও করা হয়েছে।

একে আজাদ নামে একজন লিখেছেন ‘পকেট মারা চোরও আছে এখানে?’ ডিস রতন লিখেছেন ‘এটাতে বিএনপি জামায়াতের হাত থাকতে পারে।’ এমডি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন ‘বাবুল ভাই আসলে বিষয়টা নৈহাটির শসানের ভৌতিক কোন ব্যপার কি না খতিয়ে দেখা উচিৎ।’ মহারাজপুর লিখেছেন, ‘নিজের নিরাপত্তা নিজেরা দিতে পারেনা তাহলে জনগণের নিরাপত্তা কিভাবে দিবেন?’। জাফর হোসাইন লিখেছেন, ‘অসৎ ভাবে উপার্জিত টাকা এভাবে হারিয়ে যায় ভাইয়া’। এমডি রফিক আজাদ লিখেছেন ‘ডাকাতের মাল চোরে খাইছে’।

ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার বাবুল আজাদ বলেন, ঝিনাইদহ শহর থেকে কোরাতিপাড়া পর্যন্ত নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিল। রাস্তার দু’ধারে পোশাক পরিহিত পুলিশ। এর মাঝেও এমন ঘটনা ঘটবে ধারণা ছিল না।

তিনি জানান, দুই এমপি ছাড়াও, সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন চেয়ারম্যান, দলীয় নেতা-কর্মী ও ঠিকাদারসহ অনেক ব্যক্তির পকেটমার হয়েছে। কিন্তু লজ্জায় কেউ মুখ খুলছে না।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। ওই অনুষ্ঠানে যাইওনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোরাতিপাড়া গ্রামে পুরোহিত আনন্দ গোপাল হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় স্কুল মাঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাঃ নাসিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যখন পর্যায়ক্রমে বক্তৃতা করছিলেন। প্রতিবাদ সভায় পকেটমারদের শিকার হন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই। পকেটমার তার মানিব্যাগসহ টাকা নেয়। ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের একটি মোবাইল সেট নেয়। এছাড়া ঠিকাদার বাবুল আজাদের ৫০ হাজার টাকা, গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন, শৈলকুপার দুধসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোয়েব জোয়ারদার, ঝিনাইদহের সাবেক এক পৌর চেয়ারম্যনসহ অর্ধশত নেতাকর্মীর টাকা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়।