ডুবতে বসেছে কাজীপুরের আরআইএম ডিগ্রী কলেজ

d3f7e24136d2a97695dfbb30741f5f86-dfgfdg

সিরাজুল ইসলাম শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের কারনে ডুবতে বসেছে কাজীপুর উপজেলার আরআইএম ডিগ্রী কলেজ। জাল সার্টিফিকেটে কর্মচারী নিয়োগ, সার্টিফিকেটের সাথে জন্ম সনদের অমিল, কলেজ ক্যাম্পাসে কোচিং বানিজ্য, শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকায় প্রথম হওয়ার পরও টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দান, শিক্ষক নিয়োগে কলেজ উন্নয়নের জন্য ডোনেশনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাতসহ বহুবিধ অভিযোগ উঠেছে বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান তালুকদারের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বর্তমান কলেজে কর্মরত সহকারী গ্রন্থগারীক মোছা: শিউলি খাতুন লাইব্রেরী সায়েন্স ডিপ্লোমা কোর্সের না হয়েও টাকার বিনিময়ে বগুড়ার একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে অধ্যক্ষের যোগসাজসে নিয়োগ লাভ করে। তার কাগজপত্র এমপিও ভুক্তির জন্য মাউশিতে একাধিকবার প্রেরন করা হলেও ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য এমপিও ভুক্ত না করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর পর সম্প্রতি মাউশিতে টাকার বিনিময়ে মোছা: শিউলি খাতুনের এমপিও ভুক্তি করা হয়েছে।

অপর দিকে অত্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো: শাহদত হোসেনের এসএসসিতে ২.২৫ এবং এইচ এসসিতে ২.২০ জিপিএ প্রাপ্ত, যা তৃতীয় বিভাগের সমতুল্য। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের স্মারক নংশিম/শাঃ১১/৫-১ (অংশ)/৫৮২ তারিখের জুন ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের নিয়োগ বিধি মোতাবেক কলেজ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক তৃতীয় বিভাগ গ্রহনযোগ্য নয় বলে উল্লেখ রয়েছে। অথচ অধ্যক্ষ বড় অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বোর্ডকে প্রভাবিত করে শাহদাত হোসেনের এমপিও ভুক্তির জন্য তার কাগজপত্র বারবার পরিবর্তন করে মাউশিতে প্রেরন করে আসছেন। এদিকে অত্র কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম চাকরীতে যোগদানের ক্ষেত্রে তারিখ পরিবর্তন করে অনিয়মের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। তার নিয়োগপত্র অনুযায়ী তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখে যোগদান করেছেন। কিন্তু আমিনুল ইসলামের পাষ্টার্স পাসের সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার পাশের তারিখ ১৯৮২ সালের ২১ মার্চ। মাষ্টার্স পাস করার আগেই অর্থ্যাৎ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পূর্বেই তিনি চাকরীতে যোগদান করে এমপিও ভুক্তি হয়ে বিধি বর্হিভ’তভাবে সরকারী অর্থ ও কলেজ অভ্যন্তরীন উৎস থেকে টাকা গ্রহন করেছেন।

অধ্যক্ষের একনায়কতন্ত্র ও নিয়মবর্হিভ’তভাবে গত ১০ বছর যাবত কলেজের আয় ব্যায়ের হিসাব সঠিকভাবে দাখিল করেননি। অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান তালুকদার প্রভাব খাটিয়ে কলেজটিকে নিজের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন। গত ৭ বছরে কর্মচারী, প্রভাষকসহ উপাধ্যক্ষ নিয়োগে প্রায় ৭০ লাখ টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। কলেজ উন্নয়নের জন্য ডোনেশনের নামে অর্থ নেয়া হলেও উক্ত অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা হয়নি। একারনে কলেজে কোন উন্নয়ন হয়নি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী বিধি মোতাবেক কলেজ পরিচালনা পর্ষদে ২জন পুরুষ শিক্ষক প্রতিনিধি ও ১জন মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি থাকার সুস্পষ্ট বিধান থাকলে কলেজ পরিচালনা পর্ষদে কোন মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি না রেখে তার পছন্দের ৩ জন পুরুষ শিক্ষক নিয়ে কমিটি গঠন করে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন হলো।
প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন এই কলেজটিতে অধ্যক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বৈরাচারী ও একনায়কতন্ত্রের কারনে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী, অভিবাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিমন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান তালুকদার সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলবেন না বলে তিনি জানান।

ল্লেখ্য এসকল বিষয়ে এর আগে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান তালুকদারের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।