পদ্মা নদীতে বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ শিকার: সংশিষ্ট প্রশাসন নিরব

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি:


051.jpgx

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ভাবে চলছে মাছ শিকার। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, ট্যাবলেট ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণীর অর্থ লোভী জেলেরা দিনে রাতে দেদারছে মাছ শিকার করছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় পদ্মা নদীতে মাছের আকাল দেখা দিতে পারে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন থেকে চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর, টাঙ্গন, মোক্তারপুর, পিরোজপুর ও রাওথা এলাকার পদ্মা নদী থেকে এক শ্রেনীর অর্থলোভী জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধ উপায়ে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছে। এতে করে ছোট ছোট পোনা মাছ জালে আটকা পড়ায় ধ্বংস হচ্ছে রেনু পোনা। এছাড়াও এক ধরনের বেড় জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় ছোট বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে ওই জালে। জেলেরা খাওয়ার অনুপযোগী মাছ গুলো ফেলে দিয়ে খাওয়ার উপযুক্ত মাছ গুলো বিক্রি করছে। এতে করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ এমনিতেই মরে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউসুফপুর এলাকার এক দোকান্দার জানান, অবৈধ ভাবে মাছ শিকার করার জন্য এই এলাকায় রয়েছে একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেট।

রাতের বেলায় পদ্মা নদীতে নেমে এক ধরনের ট্যাবলেট প্রয়োগ করছে। ট্যাবলেট প্রয়োগ করার প্রায় ২০ মিনিট পরেই মাছ মরে ভেসে উঠছে। এ সময় ভেসে উঠা মাছ রাতের আধারেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর সহ বিভিন্ন জেলা শহরে। তিনি বলেন, ট্যাবলেট ছাড়াও এক ধরনের পাউডার জাতীয় বিশ প্রয়োগ করে শিকার করা হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এতে করে ডিম দেয়া মাছও শিকার হচ্ছে ওই সকল পাউডার দেয়ার ফলে। অপর দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল ব্যবহার করে চলছে মাছ শিকার।

তবে এসব বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহ স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি। এভাবে মাছ শিকার করা অব্যাহত ভাবে চলতে থাকলে পদ্মা নদীতে এক সময় দেখা দিতে পারে মাছের সংকট। এছাড়াও এভাবে কীটনাশক, ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাছ শিকার করায় নদীর পানি হচ্ছে দুষিত। এতে করে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সেলিম আকতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কিন্তু কিছু জেলে বিভিন্ন কৌশল এবং সময় সুযোগে অবৈধ ভাবে মাছ ধরছে এই অভিযোগ আমাদের নিকট আছে এবং আমরাও তৎপর আছি তাদের কে আটক করে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, কোন ভাবেই ট্যাবলেট, কীটনাশক ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।