আমতলীতে পুলিশের অভিযানে ১৮ জন গ্রেফতার

grefter

বরগুনা প্রতিনিধি: আমতলীতে জঙ্গী দমনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা কালে বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে আমতলী থানা পুলিশ।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, কলাগাছিয়া গ্রাম থেকে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ছোড়া, লোহার রড, ও একটি ছেনা সহ শহীদ আকন, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী থেকে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার আসর থেকে মো: কাওছার (৪০), মো: মনির (৪১), মো: হারুন গাজী (২৯), মো: বশির (৩০), মো: আল আমিন গাজী (২৬) ও মো: জাফর ফকির সহ ৬ জনকে, গাঁজা ও হেরোইন সহ আমতলী পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে গাঁজা ব্যবসায়ী শাহ আলম (৪২) কে আমতলী ফেরি ঘাট এলাকা থেকে , হেরোইন ও গাঁজাসহ আলাউদ্দিন (৩০) কে আমতলী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড থেকে, গাঁজাসহ বাদল দুয়ারী (২৮ কে ৭নং ওয়ার্ড থেকে, গাঁজা সহ জলিল আকন (৩০) কে লোছা থেকে ও বেলাল চৌকিদার (২৫)কে সোনাউটা থেকে ও ওয়ারেন্ট ভূক্ত পলাতক আসামী হযরত আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মান্নান(৪৫) ফোরকান (৩৫)সিদ্দিক (৩৫)শাহবুদ্দিন (৩৫)সবুজ (৪০ কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃতদের কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমতলীতে ভেজাল মসলায় হাট-বাজার সয়লাব

ভেজাল মসলায় আমতলীর হাট-বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ভেজালের ছড়াছড়িতে এখন বলতে গেলে আসল কোন জিনিসই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। সেইসাথে রমজান ও ঈদুল ফেতরকে সামনে রেখে আমতলীতে বেড়েছে গরম মসলার আরো গরম। এক শ্রনীর অতিমোনাফালোভী ব্যবসায়ীদের ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, বাজারে এখন বলতে গেলে কোন আসল মসলাই যেন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আর সেই সুযোগে ভেজাল মসলা ব্যবসায়ীরা দু’হাতে মুনাফা লুটছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কোন প্রকার তৎপরতা না থাকায় ভেজাল মসলায় সয়লাব হয়ে গেছে গোটা আমতলীর হাট-বাজার। এলাচ, গোল মরিচ, জিরা, তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ , সহ সব ধরনের গরম মসলার গরম রোজাও ঈদ’কে সামনে রেখে আরেক দফা বেড়ে যওয়ায় নি¤œ ও নির্ধারিত আয়ের লোকজনের নাভিশ্বাস উঠেছে। মোট কথা রোজা আর ঈদ’কে সামনে রেখে সব জাতীয় মসলার দাম আরেক দফা বেড়ে যাওয়ায় আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। রমজান শুরু’র আগেই দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ছোঁলা , আদা, হলুদ ও রসুনের । সেইসাথে দাম বেড়েছে সব ধরনের শাক-সবজির । অপর দিকে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী রমজান ও ঈদকে সুযোগ মনে করে মজুদ করে রাখছে পর্যাপ্ত ভেজাল মসল্লা অথচ নেই কোন প্রতিরোধ , প্রতিকার । নাম প্রকাশ না করার শর্ত বেধে দিয়ে জনৈক ব্যবসায়ী জানান , রমজান এবং ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই অলিখিত ভাবে সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে যায়। আর সে সুযোগটিই কাজে লাগায় ব্যবসায়ীরা । আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে বলা হয়, এবার ঈদে মসলার দাম বাড়বেনা। ক’ জন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, রমজানও ঈদে পেঁয়াজ সহ গরম মসলার দাম সাধারনত বেড়ে যায় । এ সবের সাথে পাল্লা দিয়ে এবার বেড়েছে কালি-জিরার দামও। তার পর আবার বাড়ছে , ভেজাল জিরা , হলুদের গুড়া , মরিচের গুড়া , সোয়াবিন, সরিষার তৈল ও ঘিয়ের দাম।

আমতলীতে লাইসেন্স বিহীন ওষুধের ব্যবসা জমজমাট

সরকারী বিধি লংঘন করে আমতলী উপজেলার পৌরসভাসহ ৭ টি ইউনিয়নে ছোটবড় হাট হাটবাজারগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মত লাইসেন্স বিহনি অবৈধ ওষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। ফলে প্রতিবছর সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরোজমিনে ঘুরে দেখা গেছে পৌরসভাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গ্রামগুলোতে প্রায় শতাধিক ওষুধের দোকান রয়েছে। এসব দোকান মালিক দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা করে আসলেও অধিকাংশেরই কোন লাইসেন্স থাকলেও তা আবার নবায়ন করা হয় না।
গ্রামাঞ্চলের অর্ধশিক্ষিত অশিক্ষিত লোকজন এসব দোকানের শরণাপন্ন হয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে অহরহ। এসব ওষুধের দোকানে ভারতীয় ওষুধসহ দেশীয় নিম্নমানের ওষুধ কম মূল্যে কিনে চড়া দামে বিক্রি করছে । এ সকল লাইসেন্স বিহীন ওষুধের ওষুধের দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিষাক্ত ওষুধ প্রশসনের নাকের ডগায় বিক্রি হচ্ছে হর হামেশা।

তবে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব কিছু স্পর্শকাতর মেডিসিন আছে যা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এ সকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ফার্মাসীতে ড্রাগ লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। ১৯৭৬ সালের ফার্মাসী অডিন্যান্স অনুযায়ী প্রতিটি ওষুধের দোকানে একজন করে ফার্মাসিষ্ট নিয়োগ ব্যাধ্যতামূলক।

আমতলীর হাটবাজারে ভেজাল নিম্নমানের শিশুখাদ্য বিক্রি

ভেজাল ও নিম্নমানের শিশু খাদ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে আমতলীর হাট-বাজার। এসব খাদ্য খেয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে একদিকে যেমন শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, তেমনি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব পণ্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে থেকে পাইকারি কিনে শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে চলে যাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এসব পণ্য শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এসব পণ্যের অধিকাংশই প্যাকেটজাত হলেও এর গায়ে মেয়াদের তারিখ কিংবা বিএসটিআই এর কোনো সিল নেই। শুধু তাই নয়, বেশিরভাগ ঠিকানাও ভুয়া। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার কারণে তা ক্রমেই ব্যাপক আকার ধারণ করছে।
সব বাবা-মা তার শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত থাকলেও বিকল্প উপায় না পেয়ে এসব নিম্নমানের খাদ্য শিশুদের দিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ভোগ্যপণ্যের বেশির ভাগই খাবারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ফলের জুস, ড্রিংক, চকলেট, ক্যান্ডি, চুইংগাম, লেমনজুস, কনফেকশনারি, ডেইরিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রয়েছে-যা শিশুদের খুবই পছন্দ। অথচ বেশির ভাগ এসব খাদ্যপণ্য মানসম্পন্ন না হওয়ায় শিশু স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমতলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমত আরা কলি জানান, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুস, ড্রিংক নামে শিশুরা আসলে যা খাচ্ছে তা মোটেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। যে কারণে অল্প বয়সেই অনেকে মুটিয়ে যাচ্ছে, কারো শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি নেই। ফলে দেখা দিচ্ছে পুষ্টিহীনতাসহ নানা জটিল রোগ।
মানবাধিকার কর্মী শাহাবুদ্দিন পান্না জানান, আমাদের আইন আছে, কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল পণ্য উৎপাদন করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার সমপ্রতি ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনলেও শিশুদের অপুষ্টিকর খাবার গ্রহণে কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করেনি। শিশু খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও এর সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মানহীন পণ্যের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।