যেকোনো দিন তারেক ও গিয়াসের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট

tarekসময়ের কণ্ঠস্বর – অর্থ পাচার মামলায় বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আপিলের রায়ও ঘোষণা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেয় বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির। তিনি বলেন, শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা (সিএভি) হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির। দুদকের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট খুরশিদ আলম খান। তারেক রহমানের পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশগ্রহণ করেনি। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যার্টনি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী।

ঘুষ হিসেবে গ্রহণের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন। ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন তিনি। এ মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেয়া হয় সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকা জরিমানা।

তারেককে দেয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ওই বছর ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আপিল আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করেন। মামলাটি দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই অনুপস্থিত ছিলেন তারেক। কয়েক দফা তাকে সমনও পাঠানো হয়। গত আট বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর দায়ের করা এ মামলায় তারেক-মামুনের বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ জুলাই। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশনস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন। ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে পাচার করা হয়, যার মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।