ল্যাপটপ খুব বেশি গরম হলে কি করবেন ?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ


imagesdfgdf

প্রযুক্তির এই সময়ে অনেক রকমের ডিভাইসের মাঝে অন্যতম একটি খুবই প্রয়োজনীয় ডিভাইস হচ্ছে ‘ল্যাপটপ’। প্রয়োজনের তাগিদে প্রযুক্তি পন্যগুলো আস্তে আস্তে যেন ছোট হয়ে আসছে। চিপ, মাইক্রো চিপ, ন্যানো চিপ – যেন চলছে প্রযুক্তিকে সাধারন দৃষ্টি সীমার বাইরে নেবার। আবার এসব জিনিস ব্যবহারেও পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। কিছুক্ষণ কাজ করার পর থেকেই ল্যাপটপ ক্রমশ গরম হয়ে যায়। যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের কাছে এ ঘটনা অতি পরিচিত। কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক, তবে বেশি গরম হওয়াটা অস্বাভাবিক।
ল্যাপটপ বেশি গরম হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে এমন কিছু উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো-

১. ফ্ল্যাট জায়গার ওপর থাকলে ল্যাপটপের তলার দিকে থাকা ব্যাটারি এবং প্রসেসর তাপ বিকিরণ করতে পারে না। তাই অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। সব সময় একটি মোটা বইয়ের ওপর ল্যাপটপ রাখুন।

২. এসি নেই আবার দরজা-জানালাও বন্ধ, এমন ঘরে ল্যাপটপ বেশি গরম হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই এসি না থাকলে জানালা অবশ্যই খুলে‌ রাখুন, যাতে হাওয়া চলাচল করে।

৩. ল্যাপটপের স্ট্যাটাস বারের ব্যাটারি আইকনে ‘Power and Sleep Settings’ সিলেক্ট করুন। স্ক্রল করে Additional Power Settings -এ যান। এবার Change Plan Settings-এ ক্লিক করুন। এরপর সিলেক্ট করুন Change Advanced Power Settings। স্ক্রল ডাউন করে আসুন Processor Power Management-এ। এবার সিলেক্ট করুন Maximum Processor State। সেখানে পার্সেন্টেজ কমিয়ে দিন ৭০% থেকে ৮০%-এ।

৪. থার্মোডায়নামিক্স ‘ল’ অনুসরণ করেও কমাতে পারেন ল্যাপটপের তাপমাত্রা। পরপর কয়েকটি তামার কয়েন রাখুন ল্যাপটপের ওপরে। ধাতুর তাপশোষণ অনেক বেশি হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে ল্যাপটপের তাপমাত্রা কমবে এবং তামার কয়েনের তাপমাত্রা বাড়বে।

৫. কুলিং প্যাড অথবা কুলিং ম্যাটও কিনে নিতে পারেন। এগুলোর সঙ্গে ফ্যান থাকে যা ল্যাপটপের তলায় হাওয়া দিয়ে তার তাপমাত্রা বেশি বাড়তে দেয় না।

৬. নরম জায়গার ওপরে ল্যাপটপ রাখলে তাপ বিকিরণ হতে পারে না। তাই কখনো বালিশ, বিছানা এমনকি কোলের ওপরে রেখেও ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না।

৭. অনেক সময় ল্যাপটপের এয়ার ভেন্টগুলোতে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে যায়। কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে সেই ধুলো পরিষ্কার করে নিতে পারেন। তবে এর জন্য একজন হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই ভালো।

এবার ল্যাপটপ কেনার সময় কিছু ব্যাপার মাথায় রাখুনঃ

আকারে তুলনামূলক ভাবে ছোট, ওজনে কম এবং সহজে বহনশীল – এভাবেই হয়ত ল্যাপটপকে করা যায় সংজ্ঞায়িত। বেশির ভাগ মানুষেরই তাদের কম্পিউটারের হাতেখড়ি শুরু হয়ে থাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে এবং পরবর্তী সময়ে সময় এবং প্রয়োজনের তাগিদে তারা ল্যাপটপ কিনে থাকেন। ডেস্কটপ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে যারা কিছুটা হলেও জানেন তাদের জন্য আসলে ল্যাপটপ কেনাটা খুব সহজই হয়ে যায়, কেননা মূল দিক গুলোতে থাকেনা কোন প্রকারের পার্থক্য। তবে অনেক ডেস্কটপ ব্যবহারকারী রয়েছেন যাদের কম্পিউটারের জ্ঞান অনেকটাই মাইক্রোসফট অফিস এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় ল্যাপটপ কিনতে গেলে কেননা তারা কষ্ট বা অনেক সময় সনাতন ভয়ের কারনে মাইক্রোসফট অফিসের গন্ডি থেকে না বেরিয়ে কখনোই হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেননি। যাই হোক, আপনি যদি এমন হয়ে থাকেন তবে আপনি আশা করছি সঠিক পোষ্টটিই পড়ছেন।

ল্যাপটপ কেনার আগে দেখে নিতে হবে নকশাগত কয়েক বছরে ল্যাপটপের নকশা ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখন সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ বেছে নেওয়াটা কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ল্যাপটপ কেনার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে।
টাচস্ক্রিন

আপনি যদি টাচ বা স্পর্শ করে পণ্য চালাতে পছন্দ করেন, তবে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ আপনার জন্য ভালো হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উইন্ডোজ ৮ ইন্টারফেসের টাইল ও জেশ্চার আপনার টাচস্ক্রিন অভিজ্ঞতাকে উন্নত করবে এবং তা সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ল্যাপটপগুলোতে ওয়েব পেজ ব্যবহার করা সহজ। এ ছাড়াও ছবি ও ডকুমেন্টস দেখতেও সুবিধা হয়। টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ আপনি কিবোর্ডযুক্ত ল্যাপটপ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে টাচস্ক্রিন সুবিধার ল্যাপটপ পাবেন। সাধারণত সিনেমা দেখা, গান শোনা, ইন্টারনেট ব্যবহার করাসহ ছোটখাটো কাজের জন্য কম দামের ল্যাপটপ কেনাই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে ১৫ ইঞ্চি পর্দার মনিটরসহ ল্যাপটপ কিনতে পারেন।
নকশা ও ওজন

আপনি যদি বেশি বেশি ভ্রমণ করেন তখন আপনার জন্য হালকা-পাতলা ল্যাপটপ বা আলট্রাবুক ভালো হবে। ১২ থেকে ১৩ ইঞ্চি মাপের যে ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকে সেটি কিনবেন। যদি বাড়ি বা অফিসের কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান তবে ১৪ ইঞ্চি বা ১৫.৬ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত ল্যাপটপ কিনুন। আপনি যদি গেমার বা ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কাজের জন্য ল্যাপটপ চান তবে আপনাকে শক্তিশালী ল্যাপটপ বেছে নিতে হবে। এ জন্য ১৫.৬ বা ১৭ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত ল্যাপটপ কিনতে পারেন। আপনি যদি সব সময় সঙ্গে করে ল্যাপটপ নিয়ে ঘোরেন তবে আপনার জন্য ধাতব কাঠামোর ল্যাপটপ যুত্সই হবে। আপনার ল্যাপটপ যদি বাড়ির সকলেই ব্যবহার করে তবে তা ধাতব কাঠামো ও করপোরেট মডেলের হলে ভালো হবে। প্রচলিত প্রায় সব ল্যাপটপের ব্যাটারি লিথিয়াম আয়নের হয়ে থাকে। এতে যত বেশি সেল (৪-১২) থাকবে, ব্যাটারি তত বেশি সময় চার্জ ধরে রাখতে পারবে।

তথ্য ধারণ ক্ষমতা
ল্যাপটপ কেনার সময় খেয়াল রাখবেন তাতে কতটুকু তথ্য আপনি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এখনকার দিনে ১৫.৬ ইঞ্চি ল্যাপটপ ছাড়া অপটিক্যাল ড্রাইভের ব্যবহার কম দেখা যায়। এখন হার্ডড্রাইভের পরিবর্তে ফ্ল্যাশ ভিত্তিক ড্রাইভ এসএসডিও ব্যবহার হতে দেখা যাচ্ছে। ফ্ল্যাশ স্টোরেজ দামি হলেও এর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম। এর আকার ছোট এবং কাজ করে দ্রুত।

অপারেটিং সিস্টেম
অনেকেই অল্প কিছু অর্থ সাশ্রয়ের জন্য প্রি-লোডেড অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ল্যাপটপ কেনেন না। কিন্তু নিজে থেকে ওএস এবং অন্যান্য সফটওয়্যার ইনস্টল করা কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। ল্যাপটপ কেনার সময় আপনি যে অপারেটিং সিস্টেমে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটি ইনস্টল করুন।

ল্যাপটপের আকার
যদি বাড়ি বা অফিসের জন্য ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবেন তবে ল্যাপটপের আকার বড় হওয়া ভালো। এতে চোখের সুবিধা হবে এবং কাজের জন্য সুবিধা পাবেন। যদি কোনো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার জন্য ল্যাপটপ কিনতে হয় তবে তা হালকা-পাতলা ও ছোট স্ক্রিনের হলে ভালো হয়।

ফিচার
ভালো একটি ল্যাপটপে ইনটেল বা এএমডির মাল্টিকোর সিপিইউ থাকলে ভালো। ৩-৪ টি ইউএসবি পোর্ট এবং ল্যাপটপটি দ্রুতগতির কিনা তা দেখে নেওয়া বাঞ্চনীয়। সাধারণত উচ্চ রেজ্যুলেশনের গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাফিকসের কাজের জন্য উচ্চ গতির ল্যাপটপ কেনা জরুরি। এ জন্য প্রসেসরের ক্লক স্পিড ৩.০ গিগাহার্টজ বা এর বেশি হলে ভালো হয়। প্রসেসর কোন সিরিজের (কোর আইথ্রি, ফাইভ, সেভেন) তা জেনে নেওয়াও জরুরি। কেনার আগে অবশ্যই গ্রাফিকস সক্ষমতা কেমন দেখে নেবেন। ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাফিকসের কাজের জন্য কমপক্ষে ৪ গিগাবাইটের ডিডিআরথ্রি র্যাম হলে ভালো হবে।

ব্র্যান্ড
পুরোনো ল্যাপটপ কেনার সময় সতর্ক থাকুন। ওয়ারেন্টি দেখে নিন। পরিচিত ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ কেনার আগে তাদের বিক্রয় পরবর্তী সেবা ও অতীতে তাদের ল্যাপটপ বিক্রির রেকর্ড সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো হবে। কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড, চার্জার, ব্যাগ ইত্যাদি আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র যা আপনার ল্যাপটপের সঙ্গেই পাচ্ছেন তা বুঝে নেবেন। এ ছাড়া সব সময় অনুমোদিত ডিলার, আমদানিকারক, বিশ্বস্ত মাধ্যম বা দোকান থেকে ল্যাপটপ কিনুন।