সমস্যার শেষ নেই, অশান্তির আখড়া মুন্সিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে

collag 17.06.16

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: স্থানীয় কিছু মহৎ লোকের প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার মাত্র ৪ বছরের মাথায় ১৯৮৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে যা দেখা যায়, দেশের একমাত্র কলেজ যেখানে শহীদ মিনার নেই। ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোন প্রহরী। কলেজটিতে ৩৫০ জন ছাত্রী লেখাপড়া করেন। ছাত্রীদের জন্য নেই কোন হোস্টেল। কলেজটিতে বিজ্ঞানাগার থাকলেও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে তা এখন জরাজির্ণ অবস্থায় পরে আছে। অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা যেখানে আইসিটি বিষয়টির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত কিন্তু এখানে আইসিটি ল্যাব বলতে কিছু নেই। লাইব্রেরীতে বইয়ের উপর ধুলো পড়ে আছে। বই পড়ার কেউ নেই, খালি পরে আছে সহকারি লাইব্রেরিয়ান এর পদটিও। কলেজেটিতে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, ব্লাকবোর্ড, আসবারপত্র। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় গুলির জন্য এখনো নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি। অথচ বর্তমানে ওই বিভাগে ১৫ জন ছাত্রী অধ্যায়ন করছেন। ১ যুগ পর ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০ জন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছে সরকার, কিন্তু বিজ্ঞান মনষ্ক করার জন্য নেই কোন পদক্ষেপ। মানবিক বিভাগে বর্তমানে ২২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছেন। এছাড়া প্রাণীবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান সহ বর্তমানে ১১ বিষয়ে শিক্ষক নেই। প্রহরী না থাকার কারণে কলেজের ভিতরে বহিরাগতদের আগমন চোখে পবার মতো।

মুন্সীগঞ্জের একমাত্র এই মহিলা কলেজটিতে দূর-দূরান্তথেকে এসে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এছাড়া কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, নেই অনার্স বা ডিগ্রীতে পড়ার ব্যবস্থা।

মানবিক বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক তাদের কলেজে নেই, ফলে তারা শুধু প্রাইভেট পরে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পড়াশোনা। তিনি আরও বলেন, পাশের কলেজ গুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সার্ভিস থাকলেও তারা তা পাচ্ছেন না।

এসব বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মতিউর রহমান গাজ্জালী বলেন, আমি ১ বছর হয়েছে এখানে এসেছি। আমি আসার আগেও এসব সমস্যার ব্যাপারে মন্ত্রনালয়ে একাধিক বার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আমি পুনরায় আবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তাতেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি কিছু বিষয় নিয়ে প্রস্তাবানাও রাখেন। তিনি আরও বলেন, কলেজটিতে যদি উচ্চ মাধ্যমিক এর সাথে মাধ্যমিক পর্যায় করা যায়, অথবা পাশের হরগঙ্গা কলেজের সাথে যদি এটি একত্রিত করে পাঠদান করা যায় তাহলে হয়তবা কিছুটা সুবিধা হতো।

হৃদয়/এসএস