ভোলায় জেলেদের মুখে সচ্ছলতার হাসি ফুটালো রুপালী ইলিশ

hilsa-fish-17-06-16

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার মেঘনায় ধরা পড়তে শুরু করেছে রূপালী ইলিশ। গত ৪-৫ দিন ধরে মৎস্য ঘাট সহ বেশির ভাগ ঘাটেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানকার পাইকার, আড়তদার এবং বিশেষ করে জেলেদের মুখে দেখা যাচ্ছে সচ্ছলতার হাসি। ইলিশের দেখা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন অলস সময় কাটানোর পর ফের জমজমাট হতে শুরু করেছে এসব ঘাট। দেরিতে হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়েছে রূপালী ইলিশ। এতে জমে উঠেছে মৎস আড়তগুলো। জেলেদের আহরণকৃত মাছ চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জেলেরা জানান, গত কয়েকমাস ধরে ইলিশের দেখা মেলেনি। এতে ঋণের দায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন তারা। বিশেষ করে মেঘনায় ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বৃষ্টি হওয়াতে হঠাৎ করেই মাছের আনাগোনা দেখা গেছে। এখন জাল ফেললেই মিলছে মাঝারি ও বড় সাইজের ইলিশ।

পাইকাররা জানান, ভোলার বাজারের চেয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার, নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারী বাজারে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মৎস্য আড়তের পাইকাররা জানান মাছের সাইজ অনুযায়ী হালি প্রতি ইলিশ চার হাজার থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এতে বেশি মুনাফা পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আড়তদার আরো জানান এখন ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। জেলেরা নৌকা ও জালসহ মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে নেমে পড়েছে নদীতে। কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী জানালেন তজুমদ্দিনের চৌমহনী ঘাট, ঢালচর ঘাট ও সামরাজ ঘাট থেকে দৈনিক শত শত ঝুড়ি মাছ জেলার বাহিরে চলে যাচ্ছে। যার মূল্য প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। ইলিশের উৎপাদন বেড়ে গেলে আগামীতে আরও বেশি টাকার ইলিশ রপ্তানি করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে সাগর থেকে ইলিশ নদীতে আসতে শুরু করেছে। এ কারণে জেলেদের জালে প্রচুর রূপালি ইলিশ ধরা পড়েছে।

হৃদয়/এসএস