শান্তিরক্ষা মিশনে লেবানন গেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৩৫ সদস্য

somoy_2

প্রবাসের কথা ডেস্ক: লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ব্যানকন-৭ (ইউনিফিল) এ যোগদানের উদ্দেশে নৌবাহিনীর ১৩৫ সদস্যের প্রথম গ্রুপ বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এই নৌ সদস্যরা লেবাননে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনীর জাহাজ আলী হায়দার ও নির্মূলে যোগদান করবেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন এ কে এম এম শেরাফুল্লাহ লেবাননগামী নৌ-সদস্যদের বিদায় জানান। এসময় নৌবাহিনীর অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আগামী ২২ জুন দ্বিতীয় গ্রুপে আরো ১৩৫ নৌ-সদস্য লেবাননের উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘আলী হায়দার’ ও ‘নির্মূল’ ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে লেবাননে মোতায়েন রয়েছে। জাহাজ দু’টি লেবাননের ভূ-খণ্ডে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি লেবানীজ জলসীমায় জাহাজ দুটি মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের ওপর গোয়েন্দা নজরদারী, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানীজ নৌসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ওসমান ও মধুমতি লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়। চারবছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৪ সালে জাহাজ দু’টির প্রতিস্থাপক হিসেবে ‘আলী হায়দার’ ও ‘নির্মূল’ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত সফলতার সাথে অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালন করে আসছে। লেবানন ছাড়াও দক্ষিণ সুদানের নদীপথ, বেসামরিক ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দেয়াসহ জরুরি পরিস্থিতিতে ডুবুরী সরবরাহের কাজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট-২ নিয়োজিত রয়েছে।