ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ

হারুন -অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি:


j-gf

বিপুল পরিমাণ তেলের মূল্য বকেয়া থাকায় পেট্রোল পাম্প তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সরকারী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গত প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় দূর দূরান্তের দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের দ্বারস্থ হচ্ছে। এতে তাদের মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ অনেকটাই নির্বিকার বলে রোগীদের অভিযোগ। এছাড়া গত প্রায় দুই বছর যাবত অচল থাকা আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও সচল করা হয়নি রহস্যজনক কারণে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের দুটি এ্যাম্বুরেন্সের জন্য সদর উপজেলার কোমরপুর ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প থেকে বাকিতে তেল ক্রয় করা হতো। এ বাবদ ওই পেট্রোল পাম্পের নিকট হাসপাতালের বকেয়া দায় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি। বারবার বাকি পরিশোধে তাগাদা দিয়েও পরিশোধ না করায় পাম্প কর্তৃপক্ষ ৫ মে থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ৫ মে থেকে জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যায়।

ফরিদপুর কোমরপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কাওসার হোসেন জানান, চুক্তির ভিত্তিতে এই পাম্প থেকে জেনারেল হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু নিয়মিত টাকা না পাওয়ায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাকি পড়েছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকায় বাধ্য হয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে”।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সরকারী অ্যাম্বুলেন্সে স্বল্প খরচে রোগীকে ঢাকায় নেয়া সম্ভব বলে রোগীরা জানান। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় এক হাজার টাকার জায়গায় রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে গুণতে হয়েছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ থাকেনা। রোগী বহনের সময় পথে কোনো সমস্যা হলে তার সমাধানের ব্যবস্থাও থাকেনা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) গণেশ চন্দ্র আগরওয়ালা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তেলের বিল বকেয়া থাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে খুব জরুরি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় আমরা বিকল্প উপায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ অরুণ কুমার বিশ্বাস সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের বার্ষিক খরচের ৬০ ভাগ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে আয় করার কথা। চলতি বছর এই কোটা পূরণ করা যায়নি। তাই পাম্পে টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। এ জন্য দীর্ঘ দিন অ্যাম্বুলেন্স দুটির সেবা বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের কার্যালয়ে জরুরিভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।

চালু হয়নি আট্রাসনোগ্রাম মেশিন

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি দীর্ঘ প্রায় দুই বছরেও চালু হয়নি। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রায় ২০ বার চিঠি দেয়া হয়েছে। তবুও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে দূর্ভোগের শিকার রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ব্যবসার ফন্দি হিসেবেই আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি অচল করে রাখা হয়েছে। অসাধু চিকিৎসকেরা এর মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য করছেন। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ অরুণ কুমার বিশ্বাস সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ফরিদপুরে সিভিল সার্জনের দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর হতে ২০টিরও বেশি চিঠি দিয়েছি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি সচল করার জন্য কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।