শরীয়তপুরে ডাঃ সুমন কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের ধীরগতি

Shariatpur Hospital18-06-16 - smallনিজস্ব প্রতিবেদক সময়ের কণ্ঠস্বর : শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পেষনে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে মেল প্র্যাকটিস বা অনৈতিক চিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দারের এই মেল প্র্যাকটিস বা অনৈতিক চিকিৎসা তদন্তের জন্য সিভিল সার্জন ডাঃ মশিউর রহমান জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুনীর আহমদ খানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা শাহিনুর ও পরিসংখ্যানবিদ মোঃ সালাউদ্দিন হাওলাদার। তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, উক্ত তদন্ত কমিটি যাতে সঠিক প্রতিবেদনটি পেশ করতে না পারে এবং প্রতিবেদনটিকে যেন ধামাচাপা দেয়া হয় সেজন্য ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার উচ্চ পর্যায়ের তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ব্যাপারটি টক অফ দি টাউনে পরিনত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ১০ জুন শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহজাহান সরদারের স্ত্রী রেহেনা বেগম (২৫) শরীয়তপুর আধুনিক সদর হাসপাতালে বিনা মূল্যে বিড়ালে কামড়ানোর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নিতে আসেন। তখন অত্র হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার সুমন কুমার পোদ্দার তাকে ভ্যাকসিন না দিয়ে কিছু মেডিকেল টেস্ট করতে বলে এবং একজন দালালের মাধ্যমে তার নিজস্ব ক্লিনিক “শরীয়তপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে” পাঠিয়ে দেন। উক্ত রোগী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্টের বিল ৩ হাজার ৬ শত টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অবাক হয়ে যান। তখন রোগী ৫০০ টাকা জমা দিয়ে টেস্টের রিপোর্ট না নিয়েই চলে যান এবং রোগীর স্বামী শাহজাহান সরদার গত ১২ জুন রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মোতাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন সিভিল সার্জনকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ভাবে সিভিল সার্জন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দানের ২ দিনের বেশী উত্তীর্ণ হলেও কি এক অজানা কারণে উক্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এখন প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার পায়তারা চলছে।

একাধিক ভুক্তভোগী ও সদর হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ডাক্তার সুমন কুমার পোদ্দারের কাছে প্রতিনিয়ত রোগীরা হয়রানীর শিকার হয়ে আসছেন। তার কাছে রোগী আসলেই একগাদা পরীক্ষা দিয়ে দালালের মাধ্যমে পছন্দের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পরীক্ষা করতে না চাইলে রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

ভুক্তভোগী শাহজাহান সরদার বলেন, সামান্য বিড়ালের আচড়ের রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে অপ্রয়োজনীয় ৫টি পরীক্ষা দিয়ে দালালের মাধ্যমে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠায় ডা. সুমন পোদ্দার। পরীক্ষা ছাড়া কোন চিকিৎসা দেয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেয় ডাক্তার সুমন। নিরুপায় হয়ে ডাক্তারের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে ৩ হাজার ২শ টাকা বিল পরিশোধ করি। পরীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে আসলে ভর্তি ফরমে ৫টি ইনজেকশন লিখে হাসপাতালে ভর্তি দিয়ে দেয় ডাক্তার সুমন পোদ্দার। ৫টি ইনজেকশনই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় এবং ওই দিনই ৫টি ইনজেকশন রোগীর শরীরে পুশ করা হয়। ভর্তির পরের দিন রোগীকে দেয়া হয় বিড়ালে আচড়ের ভ্যাকসিন। এখানে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানী শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দারের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, রোগী যখন আমার কাছে আসে, তখন রোগী অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। আমি স্বাভাবিক চিকিৎসার জন্যই টেস্ট গুলো করতে দিয়েছি। রোগীকে যে বিড়ালে কামড়িয়েছে, সেটা আমার কাছে পরে বলেছে।

শরীয়তপুর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল আফিসার (আর.এম.ও) ডাঃ শেখ মোঃ মোস্তফা (খোকন) এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারটি জানি না। আমি ছুটিতে ছিলাম। সিভিল সার্জন স্যার এবং তদন্ত কমিটিই এ ব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমান বলেন, রোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের কাজে একটু সময় লাগছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।