ভারতের পতীতাপল্লী থেকে উদ্ধারের পর অন্ধকারের নির্মমতার গল্প জানালো বাংলাদেশী তিন কিশোরী

prostitute-recover

কলকাতা প্রতিনিধি – পুলিশের ঝটিকা অভিযানে দালালের হাতে পাচার হওয়া তিন বাংলাদেশী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কলকাতা পুলিশ । কলকাতার যৌনপল্লী নীলমণি মিত্র স্ট্রীটের একটি বাড়ি থেকে কলকাতা পুলিশের ইমল্যাল ট্রাফিকের গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে বেশ কজন নারী সহ পুরুষ দুই দালালকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে গত সম্প্রতি  উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশী কিশোরীদের ।

উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী সেখানে আটক অবস্থায় তাদের উপর অমানবিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছে পুলিশকে। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর অন্ধকারের নির্মমতার গল্প বলেছে উদ্ধার হওয়া ঐ তিনকিশোরী।

তাদের দেয়া বক্তব্যমতে, প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে সাত খদ্দেরকে সন্তুষ্ট করতে হতো ওই কিশোরীদের । না পারলে তাদের খাবার দেয়া হতো না। শরীরের কাপড় কেড়ে নেয়া হতো। চলতো নির্যাতন। এভাবে প্রায় মাসখানেক আটকে রেখে জোর করে যৌনকাজে বাধ্য করা হতো।
উদ্ধার হওয়া একজন তরুনী জানিয়েছেন, নীলমণি মিত্র স্ট্রীটের একটি বাড়িতে পরমা নামের এক সর্দারনী তাকে একটি অন্ধকার ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে খরিদ্দারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জোর পূর্বক তাকে যৌনকাজে লিপ্ত করে। সে এ অনৈতিক কাজ করতে না চাওয়ায় দিনের পর দিন তাকে না খেয়ে রাখে। ক্ষুধা ও পানির পিপাশায় তার মরনদশা হয়ে পরে। যে কারণে বাধ্য হয়ে সে পরমার কথামত চলতে শুরু করে। এর কদিন পর ওই পতিতা পল্লীতেই থাকা বাংলাদেশের এক মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয়। কাকুতি মিনতির এক পর্যায়ে ওই মেয়ে তাকে তার মোবাইল ফোন থেকে নিজবাড়ীতে কথা বলার সুযোগ করে দেয়। তিনি তার ভাইদের কাছে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান এবং তাকে উদ্ধার করার জন্য বলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকমাস আগেই এই তিনজনকে ভাল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেবার উদ্দ্যেশ্যেই এদের আনা হয়েছিল বলে ওই দুই দালাল পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে। গোয়েন্দারা গোপন সূত্রে এ খবর পেয়েই বুধবার রাতে অভিযান চালিয়েছিল। আটক তিন বাংলাদেশী কিশোরীকে সেখানকার স্থানীয় একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক তরুনী উদ্ধার

সময়ের কণ্ঠস্বর, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: প্রতিবেশি গ্রামের যুবকের সাথে প্রেম করে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেছিলেন তরুনী। আজ থেকে প্রায় মাস দেড়েক আগের ঘটনা সেই স্বপ্ন বুকে চেপে যুবকের হাত ধরে একরাতে ঘর ছাড়েন ঐ তরুনী । চোখে হাজারো রঙ্গীন কল্পনা আর বুকে বিশ্বাস এই ছিলো তরুনীর সম্বল। তবে বিঁধি বাম। প্রেমিক পুরুষটির চোখে ছিলো প্রতারনা তা বোঝার ক্ষমতা ছিলোনা তরুনীর। শেষ অবধি ভয়ংকর প্রতারনায় সব স্বপ্ন চুর হয়ে তরুনীর ঠাই হলো  রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী।

সম্প্রতি গোয়ালন্দ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই তরুণীকে (২০) উদ্ধার করেছে। তিনি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার কৃষক পরিবারের মেয়ে।

এ ঘটনায় পল্লীর বাড়িওয়ালী শিল্পী (৫০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় হোসেন মণ্ডল পাড়ার লাল্টু মণ্ডলের কথিত স্ত্রী।

উদ্ধার হওয়া তরুণী জানান, তাদের পাশের গ্রামের সাগর ওরফে জুয়েল নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে এসে শিল্পী নামে এক বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করে চলে যান। প্রায় দু’সপ্তাহ পর ওই বাড়িওয়ালী তাকে পল্লীর পাহারাদার দলের সরদার ও বাড়িওয়ালা লাল মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর লাল মিয়া তাকে মাসখানেক পর আরেক বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করেন। তারা প্রত্যেকেই তাকে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া তরুণীকে গত রোববার এলাকার এক যুবক পল্লীতে দেখে তরুণীর অভিভাবকদের খবর দিলে তরুণীর বাবা গোয়ালন্দ থানায় এসে এ ঘটনা জানান। পরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকের নেতৃত্বে পুলিশ শিল্পী বাড়িওয়ালীর বাড়িতে বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক ও তরুণীকে উদ্ধার করে।

আটক হওয়া শিল্পী বাড়িওয়ালী জানান, তিনি ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন দিন আগে লাল মিয়া কমান্ডারের কাছ থেকে মেয়েটিকে কিনে নেন। এছাড়া মেয়েটির লাইসেন্সের কাগজপত্র পাহারাদাররা করে দেবেন বলে বলেছিলেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শাহজালাল এর সত্যতা নিশ্চিত করে  জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।