আমার বাবা- ‘একজন বাস্তব জীবনের যোদ্ধা’

nishita mitu 1

বাবা দিবসের বিশেষ গল্প

-নিশীতা মিতু
বাবা দিবস আমার জন্য প্রতিটা দিন। তবু আজকের দিনটাও একটু বিশেষ কারন আজ বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের একটু সুন্দর দিন। আমার যেদিন জন্ম হয়েছিলো সেদিনই আমার বাবা প্রথম পিতৃত্বের স্বাদ পেয়েছিলো।

আমার বাবা একজন অতি সাধারণ মানুষ। সরকারী চাকুরীজীবী জীবনে দুই সন্তানকে মানুষ করার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় দারিদ্রতার সাথে। একটা সময় আমি এত কিছু বুঝতাম না। আশে পাশের অন্য মেয়েদের দেখতাম কত কি আছে, অথচ আমার নেই। বাবা একদিন ডেকে বললেন, ‘একজন বাবার জীবনে সবচেয়ে বড় দুঃখ হলে তার সন্তানের ইচ্ছে পূরণ করতে না পারা। আমি অনেক কষ্ট করে তোদের পড়াশোনা করাই। কখনো এমন কিছু আবদার করিস না যা আমার সাধ্যের বাইরে’।

নাহ, এরপর আমি কখনোই বাবার কাছে অকারনে আবদার করিনি। ধীরে ধীরে দেখলাম বাবা দুটি লুঙ্গী দিয়ে দিব্যি বছর পার করে দিচ্ছে অথচ আমার কয়েক মাস পরপরই নতুন পোশাক কেনা হচ্ছে। পায়ের গোড়ালি দিয়ে ছিড়ে যাওয়া প্যান্ট বাবা হাসিমুখে সেলাই করে আবারও পরছে।

এসএসসি পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে বাবা বন্ধু হয়ে আমার পাশে ছিলেন। ফরজের নামাযের সময় আমাকে ডেকে তোলা, মসজিদ থেকে ফিরে এসে আমাকে কফি বানিয়ে দেয়া, নাস্তা তৈরি করে খাওয়ানো কি না করেছেন তিনি।

সেদিন বেশ কান্না পেয়েছিলো যেদিন জানতে পেরেছিলাম প্রচন্ড ক্ষুদায় বাবা মসজিদের কেরোসিনের গন্ধ মিশ্রিত পানি খেয়ে ফেলেছিলো তবু পকেটের ২০টাকা রেখেছিলো আমি কোচিং থেকে বের হয়ে কিছু খেতে চাইতে পারি বলে।

আমার বাবার শুরুটা শুন্য অবস্থান থেকে। তবে মেয়েকে নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই। অন্য বাবারা যখন মেয়েদের সুপাত্রে দান করার চিন্তায় মত্ত তখন আমার বাবার মাথায় ঘোরে অনার্স কবে শেষ হবে, মাস্টার্স কবে আর চাকুরী করবো কবে।
বাবার কাছে আমি শিখেছি কি করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। কিভাবে চরম দুঃসময়েও নিজের মনকে শান্ত রাখতে হয়। বাবা যতটা না আমার বাবা তার চেয়ে বেশি আমার বন্ধু।

যেদিন নিজের অর্জিত টাকায় বাবাকে শার্ট কিনে দিয়েছিলাম, সেদিন নিজেকে সবচেয়ে সুখী সন্তান মনে হয়েছিলো। যেই বাবা লুকিয়ে আমার হাতে টাকা দিতেন এখন আমি মাঝে মাঝে ঝাড়ি দিয়ে তার হাতে কিছু টাকা দেই। হোক না টাকার পরিমাণ সামান্য, কিন্তু সম্পর্কের জোরটা যে বড্ড শক্ত।
আমার বাবা একজন বাস্তব জীবনের যোদ্ধা। আমাদের অনেকের বাবাই হয়ত ঠিক এমন। ভালোবাসি বাবাকে খুব বেশি।


আজ বাবা দিবসে ‘বাবা’কে নিয়ে আপনার অনুভুতি আর ভাবনার কথা জানতে ও জানাতে চাই আমরা সবাইকে।

বাবাকে নিয়ে আপনার লেখা আমাদের পেজে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে চাইলে লিখে পাঠান আমাদের।

যা প্রয়োজন
———
লেখা কমপক্ষে ৩০০ শব্দের হতে হবে।
লেখা পাঠাবার ঠিকানা [email protected]
প্রেরিত মেইলের বিষয়ে ”আমার বাবা সবার সেরা ” উল্লেখ করতে হবে।
বাবার সাথে তোলা একটি ছবি পাঠাতে হবে লিখার সাথে [সম্ভব হলে]
লেখকের পুর্ন ঠিকানা সাথে যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার।
লেখা পাঠাবার শেষ সময় আজ ১৯ জুলাই রাত ১০ টা পর্যন্ত।
———-
[ পুনশ্চ- / আমরা জানি বাবাকে নিয়ে লিখা দিয়ে কেও কেও হয়তো ‘পুরস্কার’ জিততে চাননা ।তারপরেও সময়ের কণ্ঠস্বর থেকে সবচেয়ে ভালো লেখাটি বাছাই করে আমরা সন্তানকে নয়, সেই বাবাকে ”সম্মাননা” বাবদ ‘আকর্ষণীয়’ কিছু পুরস্কার দিতে চাই। ]