চাষিদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে লটকন

LOTKON - NARSINGDI 19-06-2016

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর চাষিদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে লটকন। ফুল হয় না, পাপড়িও ঝরে না। সরাসরি গাছের কাণ্ড থেকে বের হয় লটকন, যার স্থানীয় নাম বুভি। আঙুরের মত থোকায় থোকায় ধরে বলে ইংরেজিতে এর নাম Burmese grap। বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea sapida গাছ ছোটখাটো ঝাঁকড়া ধরনের। পাতা ডিম্বাকৃতির, গাঢ় সবুজ। টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন ফল দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে লটকন। প্রতি বছরই বাড়ছে বাগানের সংখ্যা। বর্তমানে নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের লালমাটি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। নরসিংদীর শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লালমাটিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান থাকায় ওই এলাকা লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গত বছর জেলার ৫৮১ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর হয়েছে ৬২৫ হেক্টরে। শিবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে।

Narsingdi 1

লটকন চাষি সাদ্দাম মিয়া সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, চারা লাগানোর ৫-৬ বছর পর ফল আসতে শুরু করে। প্রথমদিকে চাষিরা চারার জন্য নার্সারিগুলোর ওপর নির্ভর করলেও এখন নিজেরাই চারা তৈরি করছেন। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত লটকন ফল পাওয়া যায়। এখন কোয়ালিটি ভেদে লটকান ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশেও রফতানি হচ্ছে এখানকার উৎপাদিত লটকন।

1466174564_29 copy

নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. লতাফত হোসেন জানায়, লটকনে রোগ-বালাইয়ের তেমন সংক্রমণ না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ও ফলনও ভালো। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রফতানি হওয়ায় লটকনের ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে। দুই যুগ আগেও জেলার লালমাটির আধিক্যযুক্ত শিবপুর ও বেলাব উপজেলার গ্রামগুলোর ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠতো এই ফলের গাছ। এখন সেসব গ্রামে মাঠের পর মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করা হচ্ছে এই ফল।