টেস্ট রিপোর্টে কুমারী মেয়ে অন্তসত্ত্বা, ৫০ হাজার টাকায় রফাদফা

bhaluka 19.06.16 - small2

মোঃ মমিনুল ইসলাম, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় শারিরিক দুর্বলতা ও মেয়েলী সমস্যার কারনে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক কুমারী মেয়েকে টেস্ট রিপোর্টে অন্তসত্বা হিসেবে আখ্যায়িত করায় ভালুকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেটে অবস্থিত রেজা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ শুরু হলে অবস্থা বেগতিক দেখে ৫০ হাজার টাকায় বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ভালুকা পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ড পুর্ব ভালুকা এলাকার রানী আক্তার (১৬) শারিরিক দুর্বলতা ও মেয়েলি সমস্যার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আয়েশা তাইয়েবার নিকট চিকিৎসা নিতে যায়। ডাক্তার তার বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তাকে পিটি টেষ্ট (প্রেগনেন্সি টেষ্ট) করার পরামর্শ দেন। ডাক্তারের প্রেসকিপসন নিয়ে হাসপাতাল গেটে অবস্থিত রেজা ডায়গনেস্টিক সেন্টারে টেস্ট করায় রানী আক্তার। টেস্ট রিপোর্টটিতে ’পজেটিভ’ উল্লেখ করায় ডাক্তার রানী আক্তার (১৬) কে অন্তসত্ত্বা উল্লেখ করেন। এ কথা শুনে লজ্জায় কারো কাছে কিছু না বলে নিরবে চলে যায় রানী আক্তার।

পরদিন শুক্রবার রানী আক্তার তাঁর স্বজনদের নিয়ে ’দেওয়ান ডায়াগনষ্টিক’ নামে স্থানীয় অপর আরেকটি প্যাথলজিতে টেস্ট করায়। এ প্যাথলজির রিপোর্টটি ’নেগেটিভ’ আসে। এ নিয়ে রেজা ডায়গনেস্টিক সেন্টারের উপর ক্ষিপ্ত হয় রানী আক্তারের আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাংখীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে এনাম নামে স্থানীয় একজনের মধ্যস্থতায় ৫০ হাজার টাকায় স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে রেজা ডায়গনেস্টিক সেন্টারের লোকজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজা ডায়গনেস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোঃ রেজাউর রহমান খান (লিটন) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘একজনের রিপোর্ট অন্য জনের নিকট চলে যাওয়ায় এটি হয়েছে। এটি একটি মিস্টেক।’ তিনি আরো বলেন, ‘এনাম ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকায় সাংবাদিকসহ সবাইকে ম্যানেজ করা হয়েছে।’