‘অভিজিৎসহ ৭ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ছিল শরীফ’

145323_1

সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শরীফ লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও আরো ৬ ব্লগার-অ্যাক্টিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের তিনিই মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন এ সব তথ্য জানান।

আবদুল বাতেন বলেন, ‘শরীফুল ব্লগার নিলাদ্রী নিলয়, সান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদ মোর্শেদ বাবু, ফয়সাল আরেফিন দীপন, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সুত্রাপুরের নাজিমুদ্দিন সামাদ, কলাবাগানের জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। যারা তাদের হত্যা করেছে শরিফ তাদের রিক্রুট করে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। আগের গ্রেফতার জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুলের নাম বলেছে।’

বন্দুকযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল মেরাদিয়ায় শরিফ তার সহযোগীদের সঙ্গে থাকতে পারে। তাই শনিবার রাত থেকে ডেমরা-মেরাদিয়া সড়কে অবস্থান নেয় ডিবি। রাত ২টায় সড়কটি দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের থামার নির্দেশ দেয়। তবে মোটরসাইকেলটি না থেমে পুলিশের ওপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রবিবার সকালে পুলিশ শরিফুলের পরিচয় শনাক্ত করে। বন্দুকযুদ্ধের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল, একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।’

উল্লেখ্য, শনিবার রাত পৌন ৩টায় রাজধানীর খিলাগাঁও মেরাদিয়ার বাঁশপট্টি এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার চেহারার সঙ্গে ডিএমপির প্রকাশ করা ৬ জন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যের মধ্যে চিহ্নিত জঙ্গি শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ এর চেহারার মিল পেয়ে পুলিশ তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। শরিফুলের সম্পর্কে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল পুলিশ।