স্বামী বা স্ত্রী, একে অপরের থেকে যে জিনিসগুলো ভুলেও লুকাবেন না !

couple birdsলাইফস্টাইল ফিচার, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ একজন স্ত্রী যেমন স্বামী ছাড়া পরিপূর্ণ নন তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রী ছাড়া পরিপূর্ণ নন। সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহ মহান এদের একজনকে অপরজনের সহায়ক এবং মুখাপেক্ষী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একজন আদম দ্বারা কখনোই পরিপূর্ণতা লাভ করত না এই ধরাধাম। একজন হাওয়ার আগমন ঘটিয়েছিলেন তাই আল্লাহ মহান। বিশ্বাস, ভরসা, নির্ভরশীলতা, নিরাপত্তা, প্রেম, আবেগ- সবের মিশেল এই দাম্পত্য। দুটি ভিন্ন পরিবারের দুটি ভিন্ন মানুষের এই সম্পর্কের মধ্যে স্বচ্ছতা যত বেশি হয়, ততই গাঢ় হয় প্রেম। বিয়ের কিছু বছর পার হয়ে যাওয়ার পর অনেক নারী-পুরুষকেই খিটখিটে মেজাজের হয়ে উঠতে দেখা যায়। কিছু যেন তাঁদের ভালো লাগে না, সারাক্ষণ মেজাজ গরম, নিজের স্বামী বা স্ত্রীর মনটাও তাঁরা কিছুতেই বুঝতে চান না, সব কিছু নিয়েই কেবল অভিযোগ আর হুকুমের সুর তাঁদের কণ্ঠে। দাম্পত্য সম্পর্ককে সুন্দর করতে স্বামী-স্ত্রী, উভয়েরই উচিত কিছু জিনিস কখনওই একে অপরের থেকে না লুকানো। কী কী?

১) পুরনো প্রেম, ফ্লার্টিং- কলেজ লাইফে কি তার পরে একটা, দুটো- যটা প্রেমই করে থাকুন না কেন, একে অপরের থেকে লুকাবেন না। কারণ অতীত হঠাত্ ফিরে এসে বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে আপনার বর্তমানকে।

২) আগের শারীরিক সম্পর্ক- সাহস দরকার! কিন্তু সেই সাহসটা সঞ্চয় করে নিয়েই আপনার আগে কোনও শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকলে সেটা অপরকে জানান। প্রাথমিক ঝাপটা কাটিয়ে এই সততা আপনাদের সম্পর্ককে গভীর করবে।

৩) নিরাপত্তাহীনতা- অন্য কারোর সঙ্গে আপনার স্ত্রী বা স্বামীকে দেখলে যদি আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সেটা অবশ্যই তাঁকে জানান। নইলে মনের মধ্যে অযথা সন্দেহ দানা বাঁধবে।

৪) দুর্বলতা- আপনার কোনওকিছুর উপর ‘বিশেষ’ দুর্বলতা থাকলে সেটা নির্দ্বিধায় তাঁকে জানান। তিনি সেটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবেন।

৫) ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা বান্ধবী- কোনও ঘনিষ্ঠ পুরুষ বন্ধু থাকলে স্ত্রীরা কখনওই স্বামীর কাছ থেকে সেটা লুকাবেন না, তেমনি স্বামীদেরও উচিত নয় স্ত্রীর কাছ ঘনিষ্ঠ মহিলা বান্ধবীদের কথা লুকানো।

৬) ফ্লার্টিং- অফিস বা কাজের জায়গায়, অনেকসময় পরিবারের মধ্যেও কেউ যদি আপনার সঙ্গে ফ্লার্টিং করে, আপনাকে কুপ্রস্তাব দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সেটা অপরকে জানান।

৭) নিজস্ব সময়– আপনি কোন সময়টা নিজের সঙ্গে কাটাতে চান, সেটা আগে থেকেই অপরকে জানিয়ে রাখুন। ফোন সুইচড অফ করার আগে তাঁকে জানিয়ে দিন।

সর্বপরি দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর করতে স্বামী স্ত্রী দুজনকেই এগিয়ে আসতে হবে । আর এজন্য দুজনকেই দুজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে । আপনার সঙ্গীর প্রতি সবসময় সুন্দর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করুন। গীবত, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কটূক্তি এড়িয়ে চলুন। আপনার জীবনসঙ্গী/ সঙ্গিনীকে বিয়ের প্রথম দিন থেকেই দিনে অন্তত একবার বলুন, “আমি তোমাকে ভালবাসি”। ও-তো জানেই বা আমি তো আচরণে দেখাচ্ছিই এটা মনে করে এই বলা থেকে বিরত থাকবেন না। আপনার স্বামী/ স্ত্রীর যোগ্যতার প্রশংসা করুন। পরিবারে তার প্রতিটি অবদানকে অকপটে স্বীকার করুন। স্বামী/স্ত্রীর ব্যাপারে অহেতুক খুঁতখুঁতে হবেন না। কঠোর ভাষায় কখনো তার ভুল ধরিয়ে দেবেন না। ভুলগুলোকে সময়, সুযোগমতো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিন। সঙ্গিনীর গুণাবলি ও তার ভালো দিকগুলো তুলে ধরুন। এতে তিনি ভুল সংশোধনে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন । অন্যের কাছে স্বামী/ স্ত্রীকে ছোট করবেন না বা বদনাম করবেন না। স্বামী/ স্ত্রীর মা-বাবা বা আত্মীয়দের নিয়ে তাকে খোঁটা দেবেন না। সম্পর্কের জটিলতায় সবসময় সরাসরি কথা বলুন। কাউকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না। নেতিবাচক আবেগে মন তিক্ত হওয়ার আগেই সুযোগ বুঝে সরাসরি কথা বলুন। সম্পর্ক যত সরাসরি হবে, ভুল বোঝাবুঝি তত কমবে। স্ত্রীর যেকোনো অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোনো প্রস্তাব বা কথায় প্রথমেই ‘না’ বলা থেকে বিরত থাকুন। রাসুল [সা.] বলেছেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর উভয়ে যখন একে অপরের দিকে ভালোবাসার নজরে তাকাবে, মহান আল্লাহ তাদের দিকে রহমতের নজরে তাকাবেন। ‘