৪৭২ কন্যাকে বিয়ে দিয়ে গর্বিত ‘বাবা’, আজ ফাদার্স ডে’র শুভেচ্ছায় আপ্লুত তিনি …

472konna1466322011

অবাক পৃথিবী ডেস্কমহেশ সাভানি (৪৭), পেশায় ব্যবসায়ী। বাবা দিবসে ৪৭২ মেয়ের কাছ থেকে তিনি শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন। নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন? এত সন্তানের বাবা হওয়াও কি সম্ভব?

আসলে এরা কেউ ভারতের গুজরাটের এই ব্যবসায়ীর প্রকৃত সন্তান নন। যেসব বিবাহযোগ্য মেয়ের বাবা নেই, তাদের নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে বিয়ে দিয়ে দেন মহেশ। কয়েক বছর ধরেই এই মহৎ কাজটি করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রায় দশ বছর আগে মহেশের ভাই মারা যান। পরে ভাইয়ের দুই মেয়েকে সম্প্রদানের কাজটি তাকেই সারতে হয়। এ ঘটনার পর একটি বিষয় মহেশের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। তা হচ্ছে, অনেক বিবাহযোগ্য মেয়ে রয়েছে, যাদের বাবা নেই। আর এ কারণে হয়তো অনেকেরই বিয়ে হতে সমস্যা হয়।

মহেশ এসব কন্যার বিয়ে দিতে ও তাদের সংসারজীবনে প্রবেশের বিষয়ে সহযোগিতার কথা ভাবতে শুরু করেন। তখন থেকেই মহেশ বাবাহীন মেয়েদেরকে সম্প্রদানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত তিনি ৪৭২ মেয়েকে নিজের কন্যা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পাত্রস্থ করেছেন। মা-বাবা হারা কন্যাদের ভরণ-পোষণ আর তাদের বিয়ে দেওয়ার কাজে ক্লান্ততো ননই, বরং দারুণ গর্ববোধ করেন মহেশ শিভাঙ্গি।

বড় আয়োজন করে একসঙ্গে অনেককে বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক মেয়েকেই সোনার গয়নায় সাজিয়ে এবং নতুন সংসার পাততে সব সরঞ্জামসহ ৪ লাখ রুপি করে খরচ করেন মহেশ।

মহেশ সাভানির আবাসন ও হীরার ব্যবসা রয়েছে। তারা বাবা বল্লভ ভাই ৪০ বছর আগে শহরে এসেছিলেন এবং হীরার পালিশ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি হীরা ব্যবসায়ী হন। বর্তমানে বল্লভ ভাই পরিবার গুজরাটের অন্যতম ধনী পরিবার।

ব্যবসার পাশাপাশি মহেশ সিদ্ধান্ত নেন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োগ করার। সেই চিন্তা থেকেই মা-বাবা হারা মেয়েদের ভরণ-পোষণের কাজ বেছে নেন। দায়িত্ব নেন সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার, যাদের কোনো অভিভাবক নেই বলে বিয়ে হচ্ছে না। ২০০৭ সাল থেকে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার এ কার্যক্রম শুরু করেছেন মহেশ।

তিনি বলেন, আমি এই গণ বিয়ের জন্য কখনোই অনুদানের আহ্বান জানাইনি। এটা আমারই চেষ্টামাত্র। কোনো মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় পূণ্যের কাজ আর হতে পারে না।

নববধূ হয়ে সংসারে মনোযোগী মহেশের পালিত কন্যাদের একজন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি কেবল আমার বাবাই নন, আমার ভাই-বোনেরও বাবা। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, তার মতো একজনকে আমাদের জীবনে পাঠিয়েছেন বলে।