মহামান্য হাইকোর্ট ও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ মানছেনা সিভিল সার্জন ! খুঁটির জোর কোথায় ?

somoyerkonthosorজামাল জাহেদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি-
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনকি মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানছেন না কক্সবাজার  সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট ও সিভিল সার্জন ডাঃ পুচানো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে,বদলীকৃত দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ার মাধ্যমে, বদলিপ্রাপ্ত কার্যালয়ে যোগদান না করে পুর্বের কর্মস্থলে গায়ের জোরে হিসাবরক্ষক প্রবীর কুমার পাল চাকরি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এমনকি সিভিল সার্জনের দায়িত্ব অবহেলা ও গাফিলতির সুযোগে উপরের নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা করেছিলো প্রবীর কুমার পাল।যার পিটিশন মামলা নং ৬৩২১/১৪ইং। পিটিশন অনুযায়ী প্রবীর কুমার পাল অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বদলি বাতিল করে,একই পদে একই কার্যালয়ে থাকার পিটিশন করেন বদলি চান না। তিনি যেখানে যে পদে আছেন, সেখানেই সে পদেই থাকতে চান। এ জন্যে তিনি হাইকোর্টের শরনাপন্ন হন।

প্রবীর কুমার পাল হাইকোর্টে ৬৩২১/’১৪নং রিট পিটিশন মামলার পিটিশনের পক্ষে এডভোকেট সেলিনা আকতার চৌধুরী কতৃক যাহা শুনানি হয় ১৩/০৯/২০১৫ইং এবং বিচার কার্য শুরু হয় ১৪/০৯/২০১৫ইং।অন্যদিকে রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আইনগত মতামত চাহিত হলে ও নথি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ হাইকোর্ট ১২/০১/১৬ইং তার পিটিশন মামলা খারিজ করে,৭ দিনের মধ্যে পুর্বের বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার পক্ষে মতামত দিলেও কোন খুঁটির জোরে এখনো প্রবীর কুমার বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেনি তা প্রশ্নবিদ্ধ।ককসবাজার সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট ও বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ পুচানো এ বিষয়ে নীরব ভুমিকা পালন করাতে দীর্ঘ ৭মাস হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বহাল তবিয়তে ঊক্ত হিসাবরক্ষক প্রবীর কুমার পাল।

ককসবাজার জেলায় সংঘটিত ঘটনার বিবরণ সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে প্রেরিত অধিঃ প্রশা-৩/হিসাবরক্ষক বদলী ৫১০/০৯/২৮৩২/১(১০) তাং ২৯/০৬/১৪ইং স্মারক নং সূত্রে জানা গেছে, প্রবীর কুমার পাল বর্তমান কর্মস্থল হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতাল ককসবাজার থেকে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার কার্যালয় সদরে,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৬০৫ নং আদেশে হিসাবরক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়।
যার অনুলিপি গ্রহন করে ককসবাজার সিভিল সার্জন। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি বদলিপ্রাপ্ত কর্মস্থলে যোগদান করেনি। এমনকি আদেশের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা পিটিশন মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক খারিজ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুর্বের আদেশ বলবৎ রেখে নির্দেশ দিলেও বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার।তা সত্বেও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ও হাইকোর্টের নির্দেশ মানছেনা ককসবাজার সিভিল সার্জন ডাঃ পুচানোর আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা হিসাবরক্ষক প্রবীর কুমার পাল।

এরই প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ককসবাজার সিভিল সার্জনকে লিখিত নির্দেশ ছিলো,নির্দেশ সত্তেও ককসবাজার সিভিল সার্জন ও প্রবীর কুমার পাল তা অমান্য করে যাচ্ছেন দীর্ঘ ৭মাস। কোন খুঁটির জোরে হিসাবরক্ষক প্রবীর কুমার পাল এখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে।খারিজ করা পিটিশন গোপন করে তাকে কোন ক্ষমতাবলে সিভিল সার্জন ডাঃ পুচানো পুর্বের জায়গায় বহাল রেখেছেন তা জানতে চায় সচেতনমহল।কোন উপায়ে সাংবিধানিক নিয়ম ভঙ্গ করে তার ইচ্ছাকৃত কর্মস্থলে রয়েছেন তা বোধগম্য নয় অনেকের। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট ডাঃ পুচানোর সাথে যোগাযোগ করে,কেন হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে জানতে চাইলে কোন সঠিক কারন জানাতে পারেনি প্রতিবেদককে।
মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশ থাকার পরও দীর্ঘ ৭মাস পর্যন্ত কেনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না- ককসবাজার সিভিল সার্জন। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কারো কাছেই। তাহলে প্রকৃত সমস্যাটি কি এবং কোথায় তাদের খুঁটির জোর তা জানতে চায় জেলাবাসী ?