কম্পিউটার বিজ্ঞানের পিতামহ মূসা আল খোয়ারিজমি

computer science সম্পাদনা রাফিদুল হাসান, সময়ের কণ্ঠস্বর-

আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর পুর্বে ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যে জন্মগ্রহন করেন তৎকালীন সময়ের সেরা বিজ্ঞানিদের মাঝে একজন “মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খোয়ারিজমি”। সেই সময়কার জ্ঞান চর্চার সর্ব শ্রেষ্ঠ স্থান অর্থাৎ বাগদাদের ‘বাইতুল হিকমাহ’ এর পন্ডিত এই ‘আল খোয়ারিজমি’ ছিলেন একাধারে গনিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী ও ভূগোলবিদ। বাইতুল হিকমাহ ছিলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। আরব্য রজনীর বিখ্যাত খলিফা হারুন অর রশিদের ছেলে খলিফা আল মামুনের নেতৃত্বে বাইতুল হিকমাহর সদস্য হিসেবে কাজ করেন এবং জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় সমৃদ্ধি লাভ করেন।

তার নামের “আল খোয়ারিজমি” অংশটি থেকে ‘আল খোয়ারিজম’ হয়ে ‘আল গরিদম’ হয়ে “অ্যালগরিদম” শব্দটি এসেছে। “অ্যালগরিদম” ফাংশনটি মূলত কম্পিউটার বিজ্ঞানের  গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আল খোয়ারিজমি গণিতে অ্যালগরিদমের ধারণা বিকশিত করেছিলেন। যার কারণেই বেশ কিছু কম্পিটার বোদ্ধা তাকে “কম্পিউটার বিজ্ঞানের পিতামহ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তার লেখা বিখ্যাত একটি বই হলো “আল কিতাব আল মুখতাছার ফি হিসাব আল জাবর ওয়া আল মুকাবালা” যেটিকে সংক্ষেপে ‘হিসাব আল জাবর ওয়া আল মুকাবালা’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। এই বইটির “আল জাবর” থেকেই “এলজেবরা” শব্দটির উৎপত্তি যাকে বাংলায় আমরা বীজগণিত বলে থাকি। বইটি ১২ শতাব্দিতে দুইবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছিলো। গ্রন্থটিতে তিনি মূলত বীজগনীতের পক্ষান্তর পদ্ধতি ও মুকাবালা অর্থাৎ যাকে আমরা কাটাকাটি বলি সেই পদ্ধতিকে বিশ্লেষণ করেছেন।

আল খোয়ারিজমির আলোচনা প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। তিনি লিখে গেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পর্কে। ক্যালেন্ডার তৈরি, চাঁদ সূর্য ও গ্রহ নক্ষত্রের সঠিক অবস্থান গণনা, গোলাকার জ্যোতির্বিজ্ঞান, ত্রিকোনোমিতির সাইন ও ট্যানজেন্ট টেবিল, জ্যোতীষ শাস্ত্রের টেবিল। এছাড়াও চাঁদের দৃষ্যমানতা নিয়ে দিয়ে গেছেন গুরত্বপূর্ণ ধারণা। জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত তার কাজ সময়সাময়িক বিজ্ঞানী জিজ আল সিন্ধি সহ অন্যান্য বিজ্ঞানীদের কাজকেও সমর্থন করতো।

তার তৈরি সুর্যঘড়ি ছিলো সার্বজনীন। পৃথিবীর সখল স্থানে তা সঠিকভাবে কাজ করতো। যদিও তার মূল গবেষনার প্রধান অবদান ছিলো তিনি এসকল বিষয়ে গ্রিক, ভারতীয় সহ অন্যান্য তথ্যাবলির সমন্বয় সাধন করেছিলেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের লঘুমান নির্নয়, ইহূদী ক্যালেন্ডার তৈরির মত কাজও তিনি করেছিলেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের রাশিফল ধারণকারী এক রাজনৈতিক ইতিহাস ও লিখে গিয়েছেন।

মহান এই মানুষটি ৭০ বছর বয়সে ৮৫০ খৃষ্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন। মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খোয়ারিজমি কে ইসলামি সংস্কৃতির প্রথম ধাতুগত মন মানসিকতার বৈজ্ঞানিক হিসেবে গন্য করা হয়।