হাল সময়ের পছন্দে গাউন। কোথায় পাবেন? কেমন দামে?

index

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর- সময়ের সাথে মানুষের পছন্দের পরিবর্তন ঘটে। গাউন পোশাকটিকে অতীতে যদিও পশ্চিমা দেশের পোশাক হিসেবেই ধরা হত, তবে এখন ভারত বা আমাদের দেশের তরুনীদের মাঝেও এই পোশাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই ঈদের পোশাক হিসেবে অনেকে বেছে নিচ্ছেন গাউনকে।

আপনি কি এবার ঈদে গাউন পরার কথা ভাবছেন? তাহলে জেনে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। কোথায় পাবেন, কেমন দাম, কোন রকম দীর গড়নে কোন স্টাইলের গাউন মানাবে ইত্যাদি সব কিছু নিয়েই আমাদের এই ফিচার।

কেন এবার গাউন এর এত জনপ্রিয়তা?
কান চলচিত্র উৎসবে বিশ্বের নামী দামী অভিনেত্রীদের দেখা গেছে গাউন পরেছেন। আর তাই গাউন নিয়ে একটু বেশি উৎসাহ কাজ করছে সবার মাঝে। গাউন নিয়ে আগ্রহ মূলত গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। তাছাড়া গরমের ভেতর ঈদ হবার কারনে সবাই-ই চাচ্ছেন স্বস্তিকর পোশাক পরতে আর তাতে গাউনের বিকল্প নেই। তাইতো এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে গাউন।

কেমন গড়নে মানাবে কোন কাটের গাউন?
অনেকের ভাবেন গাউন পরলে হয়ত বেশী মোটা লাগবে বা খাটোদের আরো খাটো লাগবে। তাই ইচ্ছে থাকলেও গাউন আর কেনেন না। আসলে কিন্তু কাটছাটে একটু পরিবর্তন আনলে যে কোন গড়নেই বেশ মানাবে গাউন। কোমরের দিকটা ভারী হলে হাফ বডি স্টাইলে বানানো গাউন পরলে দেখতে ভালো লাগবে। তাহলে কোমরের চওড়া ভাবটা চোখে পড়বে না।
উচ্চতা একটু কম হলে একরঙা গাউন গুলো বেছে নিন। লম্বা লাগবে। আর প্রিন্টের গাউন পরলে ছোট ছোট প্রিন্ট খুজে নিন। ভারী গড়ন হলে প্রিন্সেস লাইন স্টাইলে বানানো গাউনগুলো বেছে নিন। একটু লম্বা ও শুকনা দেখাতে সাহায্য করে এটি।

সামনের দিকে একটু ছোট আর পেছনের দিকে একটু বড় দেখতে গাউন পরুন। ভালো মানাবে।
যারা শুকনো বা হ্যাংলা শারীরিক গঠনের তারা উজ্জ্বল রঙের গাউন বেছে নিন। একটু বড় ফুল বা ডিজাইনের গাউনের আপনাকে বেশ মানাবে।

কেমন কাপড়ের গাউন পরবেন? রঙ হবে কেমন?
শিফন জর্জেটের এর কাপড়ে গাউনগুলোই এবার সবচেয়ে বেশি চলছে। দেশীয় ছোয়া আনতে টাই ডাই এর ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জর্জেট, শিফন, সাটিন, নেট, লিনেন বিভিন্ন কাপড় দিয়ে গাউন তৈরি করা হচ্ছে।

অনেক কাপড় কিনে গাউন বানান। তারা একরঙা কাপড়ের গাউনের উপর প্রিন্টের কাপড়ের কটি দিয়ে গাউন বানাতে পারেন। এবার বেশ চলছে এই ডিজাইন। বেছে নিতে গুজরাটি কাজ করা কটির সাথে একরঙা গাউন। এবার নেটের উপর ভারী কাজ করা গজ কাপড়গুলোও সবার নজর কাড়ছে।

বৃষ্টি, মেঘযুক্ত আবহাওয়া এসবের কথা চিন্তা করে এবার গাউনগুলোতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারই বেশি চোখে পড়ছে। তবে রাতের পার্টির জন্য কালো, নীল, মেরুন এই রঙগুলোও চলছে।

কেমন হবে গাউনের ডিজাইন?
বিভিন্ন কাটের গাউন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এ লাইন, হেম লাইনে এসে সামনে-পেছনে উঁচু-নিচু ও দুই পাশে ঝুলে গেছে, বডি হাগিং, হাফ বডি স্টাইল, এক ছাঁটের গাউন ইত্যাদি কাট প্রাধান্য পাচ্ছে।
আপনি চাইলে আনারকলি স্টাইলেও গাউন বানাতে পারেন। কিংবা কোমরে ভারী স্টোনের লেস দিয়ে গাউন বানাতে পারেন।
এবার ঈদে কর্দমাক্ত পরিবেশ থাকতে পারে। সেদিক খেয়াল রেখে মাটি পর্যন্ত ছোয়া গাউন গুলোর চেয়ে গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা গাউনগুলোর প্রাধান্য এবার বেশি।

কোথায় পাবেন? কেমন দামে?
দেশের প্রায় সব শপিংমলগুলোতেই আছে বাহারী রঙের, বাহারী ডিজাইনের গাউন। বসুন্ধরা সিটি, চাঁদনী চক, সিমান্ত স্কয়ার সবখানেই পাবেন পছন্দমত গাউন।
তাছাড়া দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, রঙ, কে ক্র্যাফট, ফড়িং এগুলোতে তো আছেই। কাপড় ও ডিজাইন ভেদে এসব গাউনের দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার পর্যন্ত। কাপড় কিনে গাউন বানাতে চাইলে নিউমার্কেট থেকে গজ কাপড় কিনে নিতে পারেন। সাথে পছন্দমত লেস।

নেটের ভারী কাজের কাপড়গুলোর গজ ১ হাজার থেকে ১২০০টাকায় পাবেন। লিলেন কাপড় পাবেন ১৬০ – ২৫০টাকায়। কিনতে পারেন সামু সিল্কের কাপড়। এগুলোর দাম পড়বে ২৫০ – ৩০০টাকা। উপরের অংশে ভেলভেট কাপড় দিতে পারেন। দাম ৩০০-৬০০টাকা।

চাইলে গাউন বানিয়ে তাতে এমব্রোয়ডারি করিয়ে নিতে পারেন। প্রিয়াঙ্গনে কাজের উপর নির্ভর করে খরচ হবে ২হাজার – ৫হাজার টাকা।
তাহলে কিনে ফেলুন পছন্দের গাউন আর ঈদ আনন্দে মেতে উঠুন প্রিয় পোশাকে। ঈদ কিন্তু এসেই গেল বলা চলে। পোশাক না কিনলে জলদি কিনে ফেলুন।