পদত্যাগ করছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক!

bcb-farukh

সময়ের কণ্ঠস্বর – বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিতর্কিত দুই স্তরের দল নির্বাচন–প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পদত্যাগ করবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি।

দুই স্তরের নির্বাচক কমিটির প্রস্তাবনা ব্যাপক সমালোচিত হলেও তা বিসিবির নীতিনির্ধারকরা একদমই কানে তোলেননি। রোববার বিসিবি সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় দুই স্তরের নির্বাচক কমিটি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। বিকেলে বোর্ডসভার সিদ্ধান্তের পর রাতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে টেলিফোনে জানিয়েছেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আগামী মাসের শুরুতে দেশে ফিরেই আমি বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দেব।’ এছাড়া অনলাইনে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ভাইবারে ফারুক নিজেও সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মধ্যেই রবিবার বিসিবি সভায় অনুমোদন পেয়েছে দ্বিস্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি। গত ৫ জুন বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও ম্যানেজারকে রেখে দুই স্তরের নির্বাচক কমিটি গড়ার কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

রবিবারের সভায় সেটিকে অনুমোদন দেয় ক্রিকেট বোর্ড। নির্বাচক প্যানেল ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্বাচক কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন হয়েছে।

নতুন নির্বাচক কমিটি ও তাদের কাজের ধরনও জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান। তিন সদস্যের নির্বাচক প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন হাবিবুল বাশার আর সেখানে যুক্ত হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। হাবিবুল বাশার এখন থেকে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ফারুকদের নির্বাচক কমিটির নাম হয়ে যাচ্ছে নির্বাচক প্যানেল। আরেকটি থাকছে নির্বাচক কমিটি, যেটির আহবায়ক ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান। এখানে থাকবেন জাতীয় দলের কোচ ও ম্যানেজার, সঙ্গে নির্বাচক প্যানেলের তিনজন।

ফারুক আহমেদ মনে করছেন, এই প্রক্রিয়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। বরং হস্তক্ষেপের সুযোগ বেশি। বোর্ড পরিচালক এবং ম্যানেজারের অন্তর্ভুক্তিতে এখানে স্বার্থের সংঘাতও ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।