সালথায় মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ কৃষককে ফাঁসানোর চেষ্টা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি:


foridpur.mamla

ফরিদপুরের সালথার সোনাপুর-ময়েনদিয়া রোডের যোগারদিয়া নামক স্থানে জামান সরদার নামক এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় জালাল মোল্যা (৪৮) নামে এক নিরীহ কৃষককে প্রভাবশালী একটি মহল আসামী করে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৪/০৪/২০১৬ ইং তারিখ দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ময়েনদিয়া রোডের যোগারদিয়া গ্রামের জনৈক রমজান মোল্লার বাড়ীর সামনে অজ্ঞাত নম্বরের সোনাপুর গামি একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় জহুর মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়। তখন জহুর মাতুব্বরের গ্রাম্য দলীয় লোক সারাফ খান সহ অন্যান্য লোকজন গাড়ীর চালককে আটক করার চেষ্টা করে। অপর দিকে উল্লেখিত পরিবহনের স্টাফ মোঃ ইসরাফিল (কালু) গাড়ী থামাতে বাঁধা নিষেধ করে। এ ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। উক্ত ঘটনার জের ধরে ঐ দিনই ১:৫০ সময় ২২ নং আসামী করে জালাল মোল্যা নামের ঐ কৃষক জামান সরদারকে ভেলা দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে বুকের একটু নিচে ডান পার্শ্বে কোঁপ দিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করেছে বলে মামলায় উল্লেখ্য করা হয়।

তবে জালালের পরিবার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন রাঙ্গারদিয়া গ্রামের জালাল নামের ঐ কৃষক পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিল এবং ঘটনাস্থলে না থাকলেও মামলায় তাকে জড়িয়ে আসামী করায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। স্থানীয়রা জানায়, একটি প্রভাবশালী মহল তার নামে মামলা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারাও চালাচ্ছে। তবে ভয়ে কেউই সত্য ঘটনা সম্পর্কে মুখ খুলতে পারছে না বলেও জানা যায়।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে জালালের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত আসামীকে আড়াল করে বিভিন্ন নাটকিয়তার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে তাকে জড়িয়ে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ৮, তারিখ ১৬/৪/১৬ইং। এর ফলে আজও এই নিরীহ কৃষক পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

তবে এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ জিল্লুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মামলার ২২নং আসামী জালাল মোল্যা একজন রুক্ষ প্রকৃতির লোক। আপাতত: তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছিনা। তাছাড়া মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার জন্য সিইডি তদন্তে আছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিরুপায় কৃষকের পরিবার, সংশ্লিষ্ট আইন রক্ষাকারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনায় সঠিক তদন্তের দাবি করছেন।