পোলট্রি খামারে পায়ে মাড়িয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই

bhejal laccha semai

সময়ের কন্ঠস্বর: পায়ে মাড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। বাজারজাতের পরে এসব সেমাই চলে যাবে বাজার ও দোকানগুলোতে। ঈদে গুরুত্বপূর্ন খাবারগুলোর মধ্যে সেমাই অন্যতম। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কিভাবে তৈরি হচ্ছে না জেনেই পরিবারের সদস্যদের জন্য এসব লাচ্ছা সেমাই কিনে নিয়ে যাবেন ক্রেতারা। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্টেডিয়ামের পাশে একটি পোল্ট্রি খামারে নোংরা পরিবেশে পায়ে মাড়িয়ে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরি করলেও প্রশাসন এসব বিষয়ে নীরব। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।

লাচ্ছা সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ৪-৫ জন শ্রমিক পোলট্রি খামারের মেঝেতে রাখা ময়দা পা দিয়ে মাড়িয়ে লাচ্ছা তৈরির উপযোগী করছেন। এ সময় তাদের শরীরের ঘাম ময়দায় গিয়ে পড়ছে।

শ্রমিকরা জানান, এ কারখানার মালিক তৌফিকুল ইসলাম। তিনি মেশিন না কেনায় ময়দার সঙ্গে পানি মিশিয়ে পা দিয়ে খামির তৈরি করা হয়। তারা গত দু’মাস ধরে এভাবে বিপুল পরিমাণ লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেছেন।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে কারখানার মালিক তৌফিকুল ইসলামের ফোনে ও বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও সোনাতলা উপজেলা সদরের মাদ্রাসা মোড়, কর্পূর বাজার, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন, হরিখালী বাজারে একইভাবে নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। মনিটরিংয়ের অভাবে অসৎ ব্যবসায়ীরা এ কাজে উৎসাহিত হচ্ছেন।

সোনাতলা উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর লুৎফুল হক জানান, স্টেডিয়ামের পাশে লাচ্ছা কারখানা মালিককে মেশিন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অন্য কোথায় পা দিয়ে লাচ্ছা সেমাই তৈরির বিষয়টি তার জানা নেই।

সোনাতলা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, পা দিয়ে লাচ্ছা তৈরির খবর তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।