৩৬ শতাংশ ক্যান্সারের কারণ ভেজাল ও ফরমালিনযুক্ত খাবার

bhejal khaddo-pik

সময়ের কন্ঠস্বর: `বর্তমানে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ক্যান্সারের জীবাণু বহন করছে। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে আক্রান্ত হয়ে থাকে।’ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘রমজান মাসে রকমারি ইফতার নিরাপদ খাদ্যের আলোকে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

আলোচনা সভায় কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘আমাদের কোনো ইফতার নিরাপদ নয়। যেটা আজকের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো। তাই বলে আমরা ইফতার খাওয়া কী বন্ধ করে দেব? আমাদের এই অনিরাপদ খাদ্যকে প্রথমে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ করতে হবে। এজন্য ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয়কে সচেতন হবে। খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে অনেক আইন হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩, ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ সহ বিভিন্ন প্রকার আইন হয়েছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ ততটা হয় না। যার কারণে আমাদের দেশের খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘এক আইনের আলোকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। যেখানে মাত্র ১১ জন কর্মকর্তা আছে। তাহলে তারা সারা দেশে কীভাবে কাজ করবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপদ রাখতে যেসব অফিস আছে, সেখানেও কর্মকর্তার সংখ্যা কম। আমাদের দেশে এই পর্যায়ে সর্বস্তরে নজরদারি বাড়াতে পারলেই এই নৈরাশ্যজনক ইফতারসহ সব ধরনের খাদ্য নিরাপদ রাখা সম্ভব।’

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আইনি কাঠামো তৈরি করেছেন এজন্য ধন্যবাদ। এখন তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিন। সারা দেশে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। একই সঙ্গে খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য জোরালো ভূমিকা পালন করুন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মজিদুল হক খান বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন প্রতিদিন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছা পর্য‌ন্ত সব জায়গাতে প্রতিটি খাদ্য ভেজাল ও বিষযুক্ত হচ্ছে। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাদ্য পাওয়ায় এখন জটিল ব্যাপার। বাঙালিরা এতটাই বুদ্ধিমান যে ফরমালিনযুক্ত খাবারকে নিরাপদ প্রমাণ করতে ওই খাদ্যের ওপর মধু বা মিষ্টির রস মাখে যাতে মাছি পোকা ওই খাদ্যে বসে। অথচ ভালো বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারলে এর উল্টোটা হতো।’