‘তনুর বাবাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ’

iyar
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন

কুমিল্লা প্রতিনিধি: সোহাগী জাহান তনুর বাবাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোমবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব কথা জানান আনোয়ারা বেগম।

সোমবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় চত্বরে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। তনু হত্যা তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সেনানিবাস বোর্ডের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

মানববন্ধনে আনোয়ারা বলেন, তনুর খুনিদের না ধরে আমাদের পাহারা দিয়ে রাখা হচ্ছে। বাসার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে যেন তনুর সংবাদ দেখতে না পারি। কিছুদিন আগে তনুর লাশ উদ্ধারের স্থানে তনুর বাবা গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

তনুর মা বলেন, আমরাতো সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। আমরা তনু হত্যার বিচার চাইছি। সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে গান না গেয়ে শ্রীমঙ্গল বেড়াতে যাওয়ায় মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়। সেনা সদস্যরা বাসা থেকে তনুর ডায়েরি, অ্যালবাম সব নিয়ে গেছে। তার আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন বাসায় নেই।

তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ‘ভুল’ উল্লেখ করে চিকিৎসকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তনুর মা।

তিনি বলেন, আমাদের বাসায় এসে কর্নেল মাসুদ বললেন- রাস্তার পাশে যখন তনুর স্যান্ডেল পেয়েছেন- তা নিয়ে চলে এলেন না কেন? কোনো বাবা-মা কি পারে সন্তানের স্যান্ডেল নিয়ে তার খোঁজ না করে ঘরে ফিরে আসতে? তনুর লাশ শিয়াল-কুকুরে খেলে তখন বলতো শিয়ালে মেরেছে। তনুর যদি স্ট্রোক হতো তাহলে তার লাশ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতো। জঙ্গলে পড়ে থাকতো না। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকতো না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক পরেশ রঞ্জন কর, মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল, তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন, গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র আবুল কাশেম, লেখক ও প্রাবন্ধিক মোতাহার হোসেন, কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান।

গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি কালভার্টের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মো. ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।