পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবকের পরিচয় নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন!

rana-crosefire

সময়ের কণ্ঠস্বর – সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছুই মিলছে না। পুলিশের কোনো কথাই আর বিশ্বাসযোগ্য থাকছে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে পুলিশ সত্য বললেও এখন আর কেউ বিশ্বাস করবে না। গত শনিবার ফাহিম ও রোববার ‘শরিফুল’ হত্যার ঘটনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত পুরস্কার ঘোষিত ছয় জঙ্গির একজন শরিফুলের আসল নাম মুকুল রানা। সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসে তিনি কোনো দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না, তা তার পরিবার জানে না। তিনি ঢাকায় কী করতেন, সে খোঁজও জানা নেই পরিবারের।

নিহত শরিফুলের লাশ নিতে আসা তার দুলাভাই হেদায়েতুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই রহমত এসব কথা বলেন।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাঁশপট্টি এলাকায় শনিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হন। পুলিশ নিহতকে ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার প্রধান শরিফুল ওরফে হাদি-১ বলে দাবি করে।

তবে নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছে, তার নাম শরিফুল ওরফে হাদি নয়। সে সাতক্ষীরা গর্ভমেন্ট কলেজের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মুকুল রানা।

সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতালের মর্গে মুকুলের লাশ শনাক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে এ দাবি করেন তার দুলাভাই হেদায়েতুল ইসলাম ও চাচাত ভাই রহমত আলী।

এদিকে নিহত তরুণের সুরতহাল রিপোর্ট করা হয় রোববার বিকালে। খিলগাঁও থানার এসআই আল মামুন রিপোর্টে নিহতের নাম শরিফুল উল্লেখ করেন।

কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা অভিভাবক ছাড়া এ নামে লাশের সুরতহাল রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস মেহেদী। ফলে অজ্ঞাতনামা (২৫) হিসাবে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ ঢামেকের মর্গে রাখা হয়।

সোমবার হাসপাতালে নিহতের দুলাভাই পরিচয় দিয়ে সাতক্ষীরা নিবাসী হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, নিহতের নাম শরিফুল নয়, মুকুল রানা।

এ সময় তিনি মুকুলের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখান। যার নম্বর, ১৯৯৩৮৭১৮২৫৪০০০০৬৮। এতে মুকুলের পিতার নাম মো. আবুল কালাম আজাদ এবং মাতার নাম মোছা. ছকিনা লেখা হয়েছে।তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯৩ সালের ২৫ নভেম্বর।

হেদায়েতুল বলেন, পত্রিকায় নিহত মুকুলের ছবি দেখে তারা সাতক্ষীরা থেকে ঢামেক হাসপাতালে এসেছেন। লাশ দেখে মুকুলকে চিনতে পেরেছেন।

তিনি আরও জানান, মুকুল সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল সে।

সাতক্ষীরায় মুকুলের বাবার ছোট চিংড়ি ঘেরের ব্যবসা রয়েছে। আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না হওয়ায় এক বছর আগে সে ঢাকায় চলে আসে।

তবে মুকুল উত্তরায় কোথায় থাকতো, কী করতো বা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কি না তা তিনি জানেন না বলে হেদায়েতুল সাংবাদিকদের জানান।

উল্লেখ্য,রোববার পুলিশ জানিয়েছিল, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাঁশপট্টি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে হাদি-১ নিহত হয়েছে। সে সংগঠনটির স্লিপার সেলের অন্যতম কিলার।

পুলিশের ভাষ্য, নিহত যুবক লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়। তাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. দিদার আহাম্মদ দাবি করেন, ‘নিহত শরিফুল বিভিন্ন নামে গোপনে সক্রিয় ছিল। অভিজিৎসহ আরও ছয়টি খুনে সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিল সে।’

তিনি আরও বলেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সংগ্রহ করা সিসি টিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। বিভিন্ন সময় ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন যে ছয় জঙ্গি সদস্যকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ সম্প্রতি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল তাদের মধ্যে শরিফুল দ্বিতীয়।