প্রধানমন্ত্রীর নন্দিত পদক্ষেপ “সবার জন্য বাসস্থান “মহেশখালীতে জনবান্ধব হবে কি?

prokolpo

জামাল জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার- প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আধুনিক সময়ের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহহীন মানুষের ঠিকানা নির্ধারন করার পূনর্বাসনে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে মহেশখালী উপজেলাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে সারাদেশে বাছাই কমিটির মাধ্যমে তিন ক্যাটাগরিতে গৃহহীন লোক বাছাই করে ১৫ই জুন কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

আবেদন জমা দেয়ার প্রথম দিনে মহেশখালীর প্রতিটি কার্যালয়ে ঘরের জন্য আবেদনকারীদের উপচেপড়া ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। কোন ক্ষুদ্র জিনিস যখন আমরা সহজে খালি চোখে দেখিনা তখন ল্যাবরেটরিতে গিয়ে অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখলে অতি ক্ষুদ্র বস্তুটিও দেখি হাজার হাজার দলে, ঠিক তেমনি আমরা স্বাভাবিক ভাবে বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক নয়নে বুঝতে পারিনা কে গরিব আর কে বড় লোক।

কেননা ভারতীয় আধুনিক আগ্রাসনে মানুষের বাহ্যিক রুপ গন্ধ সব পাল্টিয়েছে তবে ভেতরের অভাব নয়। সে কারনে সরকার কতৃক যখন কোন সাহায্য, সহযোগিতা, ও প্রকল্পের ঘোষনা দেয়, তখন আমরা দেখি হাজার হাজার উপকারভোগী বা অসহায় হতদরিদ্র মানুষের ভীড়, যেনো কোন অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পেয়াজের কোষ দেখতেছি।

অন্যদিকে বর্তমান সময়ের সফল রাষ্ট্রনেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব প্রকল্পের উদ্দেশ্য সৎ এমন চমৎকার সৃষ্টিশীল গরিব বান্ধব পদক্ষেপ সাধুবাদ প্রাপ্ত। তবে সরকারের একদম নিম্নস্তর ইউনিয়ন পরিষদ বা মাঠ পর্যায়ে এসে সেসব প্রকল্প বারবার হোছঁট খায়, কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি ও বিতর্কিত কর্মকর্তার কারনে বাধা পাচ্ছি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে। দেশকে নিয়ে যারা কাজ করার জন্য ভাবে তারা টিভি টকশোতে মনে হয়। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এক পা নিয়ে কতদুর যাওয়া যায় একটা দেশের।

সরকার প্রধান মানুষকেই গৃহহীন রাখতে চান না। তিনি আশ্রয়ন প্রকল্প-২ অনুযায়ী গৃহহীনদের ঘর দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জানা যায়, প্রকল্পটির বাস্তবরূপ সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। সরকার সকল কিছু যাচাই-বাচাই করেই ঘর তৈরির কাজে হাত দেবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্মারক নং ০৩.৭০৩.০১৪.০০.০০.১৩৩৫.২০১৬-৪০ তারিখ ১৯/০৪/২০১৬ তারিখে জানা যায় বিস্তারিত।

সবার জন্য বাসস্থান আগামী ২বছর ৮মাস সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ২.৮ লক্ষ গৃহহীন পরিবার কে পূনর্বাসনের লক্ষ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে গৃহনির্মান ব্যবস্থা নিবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নান্দনিক পদক্ষেপে। প্রথমে-গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে ৫০,০০০পরিবার। দ্বিতীয়ত গৃহায়ন তহবিল ২০,০০০পরিবার। তৃতীয়ত আশ্রয়ণ প্রকল্প- ২ তে ২,১০,০০০ পরিবার পূনর্বাসিত হবে। তবে নদী ভাঙ্গন এলাকায় টিনের ঘর তৈরি করে দেবে যাতে পরে সরিয়ে নিতে পারে বলে জানা যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা বলে ঘোষনা করেছেন। এবং উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সবার জন্য বাসস্থান সহায়তায় প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে বাচাই কমিটি করে দিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কতৃক মনোনীত প্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

যে কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নের সকল গৃহহীন মানুষদের একত্রে জনসম্মুখে সংযুক্ত ছক মোতাবেক গৃহহীন পরিবারের ডাটা সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুত করবে সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে কিন্তু আদৌও কি তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কক্সবাজার মহেশখালীর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কাজ করতেছে নাকি কিছু দলীয় নাম ব্যবহার করে, নিজেকে নেতা পরিচয় দিয়ে তালিকা প্রনয়নের নামে হতদরিদ্র মানুষের শেষ সম্বল গচ্ছিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তা দেখা দরকার সকল প্রশাসনের গোয়েন্দাগিরিদের। আমি দৃষ্টি করছি মহেশখালীর সকল চেয়ারম্যানদের কারন মহান নেতার মহান নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ হাতে গড়া, স্বপ্ন জাগানিয়া মধ্যম আয়ের দেশ হতে যেনো কোন অসৎ উদ্দেশ্য বাধা সৃষ্টি না করে।

একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করা জরুরী তা হলো, গৃহহীন বলতে সরকার কাকে সুনির্ধারণ করেছে তাও জানা দরকার কেন না নানা বাহনায় অসহায় হতদরিদ্রদের ভুল বুঝিয়ে এক শ্রেণীর লোক তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বন্ঞিত করে। বাংলাদেশে এমন ও আমরা শুনি কিছু জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা নিজেদের জাহির করে বেড়ায়, এসব প্রকল্প শুধু যারা দলীয় লোক তাদের জন্য প্রযোজ্য তার কোন আদৌ ভিত্তি সরকার রাখেনি কারন সরকার দরিদ্রবান্ধব, প্রতিটি জনগন কে কি করে? তার পরিচয় কি? সেটা দেখে কোন সরকার কোন সাহায্য সহযোগীতা করেনা।

বাংলাদেশ নামক একটি ছোট দরিদ্র দেশকে আজ বিশ্বের স্বনির্ভর দেশের কাতারে দাড় করিয়েছেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার নীতি একটাই পেছনের ফিরে তাকানোর সময় নেয়, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশও সকল দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে, ২০৪১ভিশন সফল হবেই। বলতে চেয়েছিলাম গৃহহীন হলো, যার কোন জমি ও ঘর নেই, তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা। অন্যদিকে যার ১-১০শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই অথবা ঝরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে তাকে নিজ জমিতে ঘর নির্মান করে দেওয়া।

এবং যার কোন জমি নেই তিনি কমপক্ষে ১শতাংশ জমি দানসুত্রে বা কোন ভাবে প্রাপ্ত হয় তবে তাকে ঐ জমিতে সরকার ঘর তৈরি করে দেবে। এবার চিন্তা করা উচিত পাঠকের, কারা ঘর পাবার যোগ্য, আমরা চাইনা যে জনপ্রতিনিধি ৭তলায় ঘুমায় সে দ্বিতীয় ঘরের মালিক হোক! যে নেতার ৩ টি বাড়ি আছে তার নামে যেনো কোন বাড়ি বরাদ্দ না হোক!

যিনি জনপ্রতিনিধি তার সে ক্ষমতাবলে যেনো তার স্বনির্ভর কাছের কোন আত্বীয়কে গৃহহীন ঘরের মালিক না বানান কারন তাহলে কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবেনা। অন্যদিকে এ রকম হলে জনগণ আস্থা হারাবে ন্যায় নীতি ও সরকারের প্রতি। আমরা চাইনা কোন গনমাধ্যমে লজ্জাজনক ভাবে কোন নিন্দিত কাহিনী প্রকাশিত না হোক কোন অনিয়ম, যেহেতু পদক্ষেপটি সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, সকল প্রশাসন, সকল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বোঝা উচিত এসব প্রকল্প নজরে রাখবে সকল গোয়েন্দা সঃস্থা। সে সাথে কোন অসহায় দরিদ্র বাবা, আর বিধবা নারী যেনো আক্ষেপ না করে বলে, তৈল মাথায় তৈল!!