‘মন্ত্রিত্বের লোভে দুটি পার্টি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’

songsodসময়ের কণ্ঠস্বর – জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদল মন্তব্য করেছেন,  মন্ত্রিত্বের লোভে দুটি পার্টি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সংসদে বসে ইজ্জত-আব্রু সব বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী হলে সংসদে কথা বন্ধ হয়ে যায়। বাম প্রধান নেতা এটা বোঝেন না তার অবস্থান কোথায়। তিনি তো এখন মন্ত্রী, মন্ত্রী হয়ে তিনি কী কথা বলতে পারেন?’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদের একাংশ আয়োজিত ‘বাজেট পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা: প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার বাজেট: বাস্তবায়নের পথনির্দেশক কতটুকু? শীর্ষক সেমিনারে মঈন উদ্দীন খান বাদল এ মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ মন্ত্রী আপনি গত আট বছরে আমাদের কী দিয়েছেন? গত আট বছরে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। শরতের ভাষায় নৌকা তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা এটাও দেখতে পাচ্ছি, নৌকার পালে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। গত আট বছরে বাংলাদেশের মোট সম্পত্তির ৪৭ ভাগ গেছে ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। আর ১৩ ভাগ সম্পত্তি গেছে ৪০ শতাংশ নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে। মুহিত সাহেব, এই হচ্ছে আপনার উন্নয়নের চেহারা। একবার আয়নায় দেখেন এর প্রতিফলন দেখতে পারবেন। তখন যদি আপনার বোধোদয় হয়, তখন যদি বুঝতে পারেন উন্নয়নের মাপকাঠি।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে এখন আর রাজনীতিবিদ নেই। ৪৬ বছর রাস্তায় হেঁটে রাজনীতি করছি। এখন সংসদে এসেছেন সোনার ছেলেরা। যারা দেশ নিয়ে ভাবেন সেই সব তথাকথিত উচ্চবিত্তরা বাংলাদেশের মানুষ খেল কি খেল না তা নিয়ে ‘বদার’ করেন না। এই তো আমাদের দেশের অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আজ রাজনৈতিক সমৃদ্ধি হচ্ছে না। রাজনীতির সমৃদ্ধি না হলে পরিবর্তন ও বিকাশ হবে না। রাজনীতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়ন একটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। যে বাজেট দেয়া হয়েছে পুরোটা ব্যয় করার ক্ষমতা আছে কি না, কতটুকু আয় হবে, কতটুকু ব্যয় হবে তা নির্ধারণ না করেই বাজেট দেয়া হয়েছে। এ যেন গাছের ক্ষমতা না দেখেই মগডালের ওঠার মতো বাজেট।

তিনি বলেন, সমতাভিত্তিক সমাজ বাস্তবায়ন করতে হলে বৈষম্য কমাতে হবে। আর বৈষম্য কমাতে হলে দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের ধরতে হবে। তবে এ বাজেটে সরকারের এ ব্যাপারে কোনো উদ্দেশ্য পরিলক্ষিত হয়নি।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আজ আর সরকারের ওপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না। আমলাতন্ত্রের হাতে বন্দি সরকার পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। বঙ্গবন্ধুর যে আওয়ামী লীগ তা এখন আর নেই।

দলটির সভাপতি নূরুল ইসলাম আম্বিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রধান, কার্যকরী সদস্য মো. খালেক প্রমুখ।