হাজতখানায় গিয়ে ‘মর্মাহত’ প্রধান বিচারপতি

sk-sinhaসময়ের কণ্ঠস্বর – প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ঢাকার সিএমএম এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালত পরিদর্শনের বিষয় তুলে ধরে বলেছেন, ‘মায়ের সঙ্গে হাজতে থাকা এ শিশু হয়তো একদিন রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধান বিচারপতিও হতে পারে।’

সোমবার সকাল নয়টায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির কনফারেন্স রুমে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘মা হয়তো অপরাধ করেছেন। কিন্তু শিশুগুলোর কী দোষ? অথচ তারাও মায়ের সঙ্গে হাজত খাটছে।’

মায়েরা কেউ খুন, কেউ মাদকের মামলার আসামি। বাচ্চাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মাসের পর মাস তারা ঢাকার কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকছে।

ঘটনাটি তাকে কষ্ট দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আগে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের যে কিছুটা অনাস্থা ছিল, এখন তা নেই। বিচারপ্রার্থী কোনো মানুষকে এখন মামলায় হারলেও অনেক সময় বলতে শুনেছি, যা-ই হোক বিচার তো হয়েছে’।

তিনি আরো বলেন, ‘বাদী যেমন ন্যায়বিচার চান, তেমনি আসামিও ন্যায়বিচার চান। বছরের পর বছর মামলার সাক্ষী আসেন না। এতে করে আসামি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

এর আগে সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা পরিদর্শনের সময় নারী হাজতখানায় চার নারী হাজতির সঙ্গে তাদের চার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে দেখেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি প্রথমে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে নিয়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানা পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হাজতখানার কয়েকটি কক্ষ ঘুরে দেখেন। একটি হাজতখানায় থাকা তিন দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ নারী হাজতিকে তাদের মামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখান থেকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে যান। তখন বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় তিনি সিএমএমের খাসকামরায় কিছু সময় বসেন।

এরপর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের বিচারক জেমিন আরা বেগমের খাসকামরায় গিয়ে কিছু নথি পর্যবেক্ষণের পর সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান।

এদিন মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রুহুল আমিন বিচারকাজ পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় প্রধান বিচারপতি তার পাশে বসে জামিন আবেদনের শুনানি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট বিচারকার্য পর্যবেক্ষেণের পর তিনি মহানগর দায়রা জজের খাসকামরায় বসে জামিন হওয়া বিভিন্ন মামলার নথি পর্যালোচনা করেন। একইভাবে এরপর তিনি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস এম জিয়াউর রহমানের এজলাসে বসে বিচারকার্য পর্যবেক্ষণের পর তার খাসকামরায় বসে বিভিন্ন মামলার নথি পর্যালোচনা করেন।

এরপর একইভাবে ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সফিউল আজম, প্রথম যুগ্ম জেলা জজ সাহাদাৎ হোসেন এবং সর্বশেষ জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামানের এজলাসে এবং তাদের খাসকামরায় বসে বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ এবং নথি পর্যালোচনা করেন।

পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বসে আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।