লালপুরে মাদ্রাসা শিক্ষিকা হাফেজ মুক্তিআরার রহস্যজনক মৃত্যু: বন্ধুমহলে নানান প্রশ্ন !

severa-questions-for-death-of-madrasa-teacherতাপস কুমার, নাটোর:

নাটোরের লালপুর উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষিকা হাফেজ মুক্তিআরা (২৫) এর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মুক্তিআরা বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে এবং আব্দুলপুর গ্রামের হাতেম আলী সরকারের ছেলে হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। শশুর বাড়ির লোকজন মুক্তিআরা আত্মহত্যা করেছে বলে জানালেও মুক্তির বাবা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন মুক্তিকে হত্য করা হয়েছে ।

জানাগেছে ১১ জুন (শনিবার) বিকেলে মুক্তিআরা তার শশুর বাড়িতে ঘরের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পান তার বাবা মোশারফ হোসেন। লাশ নামিয়ে দয়ারামপুর এর একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে যায় মুক্তির শশুর বাড়ির লোকজন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে কোরআন এর আড়াই পারার হাফেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার লাশ কাটা ছেঁড়া না করার জন্য আমার কোন দাবি দাওয়া নেই বলে পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর মর্গে পাঠানো হয়’।

তিনি জানান, মুক্তিআরার লাশের মাথার পেছনে ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কয়েকদিন ধরে মেয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। পরে জেনেছি তার মৃত্যুর তিন দিন আগে জামাই হাফিজুর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়েছিল। তাদের স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। যেন রান্না করতে না পারে সে জন্য রান্নার চুলা পর্যন্ত ভেঙ্গে দিয়েছিল তার শাশুড়ি। ঘরের যে স্থানে ঝুলে মুক্তিআরা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে সেটাও রিতিমত সন্দেহ জনক। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তিনি আদালতের আশ্রয় নেবেন বলে জানান।

মুক্তিআরার ছুরত হাল রির্পোট প্রস্তুতকারি আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল মালেক জানান, মুক্তিআরার লাশের নাকের কাছে সামান্য দাগ ছাড়া আর কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়নি। লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে আত্মহত্যা কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এব্যাপারে লালপুর থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করার জেরে নাটোরে পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে !

ছাত্রলীগ কর্মীর রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করায় নাটোরের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে বড়াইগ্রাম ছাত্রলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান জিন্নার বিরুদ্ধে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগ সভাপতি জিন্নাহ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও অভিযুক্ত বড়াইগ্রাম ছাত্রলীগের সভাপতি ও বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কেএম জাকিরের ছোট ভাই জিল্লুর রহমান জিন্নাহর বিরুদ্ধে আব্দুল খালেক নামে অপর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রোববার বিকালে বনপাড়া বাজারে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য লাইসেন্সবিহীন মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এ সময় একজন ছাত্রলীগ কর্মীর মোটরসাইকেলের লাইসেন্স না থাকায় সেটি আটক করেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিছুক্ষণ পরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কেএম জাকির হোসেনের ছোট ভাই জিল্লুর রহমান জিন্নাহ মোবাইলে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু তাতে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রাজি না হওয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান জিন্নাহ ১৫-২০ জন নেতা-কর্মীসহ সেখানে এসে উপস্থিত হন। এসময় উপ-পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে জনসাধারনের মাঝে লাঞ্চিত করেন। এ সময় পুলিশ কনস্টেবলেরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও লাঞ্চিত করে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। পরে পিক-আপে করে উপ-পরিদর্শক আশরাফ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেলটি নিয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে এসআই আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রেজিষ্ট্র্রিবিহীন মোটর সাইকেল আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু ছেড়ে দিতে রাজি না হলে তারা অশোভন অচরন করেন।  তবে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই দয়াল ব্যানার্জি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাকে লাঞ্চিত করেনি, গালি-গালাজ করেছে এবং মারার চেষ্টা করেছে বলে শুনেছি।

নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুর্খার্জি জানান, ভুল বুঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তা নিরসন হয়েছে।
এব্যাপারে বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান জিন্নাহ জানান, পুলিশের ওই কর্মকর্তা রেরিষ্ট্রেশন সহ মোটর সাইকেল আটক করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেনি।

ঈদ উপলক্ষে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের  ভ্রাম্যমান চিনির দোকান

পবিত্র রমজানে স্থানীয় বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তারা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে চিনিকলের চিনি প্যাকেটজাত করছেন এবং চিনিকলের নিজস্ব ট্রাকে করে এলাকার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চিনি বিক্রি করছেন। সোমবার উপজেলার গোপালপুর বাজারের কড়ইতলাই মানুষ লাইন ধরে চিনিকলের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে প্রত্যেককে ২ কেজি করে চিনি নিতে দেখা গেছে।
চিনিকল সূত্রে জানাগেছে, সোমবার লালপুরে ২ মে:টন চিনি বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা শ্রমে ৪/৫ টন করে চিনি প্যাকেটজাতকরণ হচ্ছে। র্থ বেঙ্গল সুগার মিলের চিনি বর্তমানে ট্রাকে করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় সমুহেও বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আব্দুল আজিজ। ল্লেখ্য খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৫৮থেকে ৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।