মাছধরা চাঁইয়ে মঠবাড়িয়ার হাট-বাজার সয়লাব, প্রশাসন নিরব

mathbaria

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মাছ ধরা চাঁইয়ে হাট-বাজার সয়লাব। উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর প্রশাসনের নাকের ডগায় বসছে চাঁই বিক্রির পসরা। অজ্ঞাত কারনে প্রশাসন নীরব।

বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় দেশি প্রজাতির মাছের বিচরণ বৃদ্ধি পায়। মৌসুমের শুরু থেকেই খাল-বিল-নালায় পানির প্রবাহ বাড়ে। সেই সাথে কৈ, শিং, মাগুর, বাইলা, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির দেশি জাতের মাছের পোনার বিচরণও বেড়ে যায়। এসময় চিংড়ি ও দেশি মিঠা পানির মাছের ছোট পোনা ধরার জন্য গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে বাঁশের তৈরি বিশেষ এক ফাঁদ। বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি মাছ ধরার এ ফাঁদের নাম চাঁই। গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার সবচেয়ে আদি উপকরণের মধ্যে একটি হচ্ছে বাঁশের তৈরি চাঁই।
মঠবাড়িয়া উপজেলার দেবীপুর গ্রামের হেমায়েত উদ্দিন (৫৫) ও নান্না ফরাজী (৫০)’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে নিজেদের প্রয়োজনে বাঁশের তৈরি চাঁই তৈরী করতেন। এরপর তারা পেশা হিসেবেই গ্রহণ করেন। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে হাতে তেমন কাজ না থাকায় চাঁই বানিয়ে বাড়তি রোজগারের জন্য প্রতি বছর চাঁই তৈরী করেন।
মিরুখালীর ছোট শৌলা গ্রামের সুনীল বেপারী (৪৮) জানান, সাধারণত বাঁশ ও সুতা দিয়েই চাই বানানো হয়। তবে চাঁই তৈরীতে মূলত মাড়ল ও মুলি বাঁশ ব্যবহার করা হয়। এই বাঁশ ছাড়া ভাল চাঁই হয়না। একটি মুলি বাঁশ দিয়ে চারটি চিংড়ি মাছ ধরার চাঁই হয় আর একটি মোড়ল বাঁশ দিয়ে সাতটি চাঁই হয়। মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা তুলে এগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর শুরু হয় চাঁই তৈরির প্রক্রিয়া। বিভিন্ন ধরনের ফর্মার মধ্যে ফেলে নাইলনের সুতা দিয়ে বাঁশের শলাগুলো সেলাই করে বেড়ার মতো বানানো হয়। একটি কারিগর সারা দিনে পাঁচটি চাঁই বানাতে পারে।

তুষখালী ইউনিয়নের আলাউদ্দিন মিয়া (৬৫) বলেন, একটি চিংড়ি মাছের চাঁই তৈরি করতে সব মিলিয়ে ৬৫ টাকা খরচ হয়। আমরা বিক্রি করি ৯০ টাকায়। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই চাঁই বানানো শুরু করি। এসময়ে বাজারে দামও ভাল পাওয়া যায়। আমি এবার দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। আশা করছি, আমার এবার ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকবে।

উপজেলার সাফা চাঁই বাজারের ইজারাদার নান্না ফরাজী (বর্তমান মেম্বর) কাছে চলতি মৌসুমে মা মাছসহ সকল মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও কেন এই চাঁইয়ের বাজারে তা বিক্রি করতে দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, এরা গরীব মানুষ। মাছ বিক্রি করে সংসার চালায়। তাই আমি বাধা মেই না। তবে প্রশাসন নিষেধ করলে আমি বাজাওে চাঁই বিক্রি বন্ধ করে দেব।

মঠবাড়িয়া গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো জানান, বাঁশের তৈরী চাঁই চিংড়ি ও দেশী প্রজাতির মাছের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে আমাদের দেশী মাছের বংশ বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ চাঁই বিক্রয় ও বাজারজাত নিষিদ্ধ হলেও তা প্রকাশ্যেই সাপ্তাহিক হাটে বিক্রয় হয়।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুম মা মাছের ডিম ছাড়ার সময়। তাই এসময় চাঁই দিয়ে মা মাছসহ পোণা মাছ ধরা ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। সম্প্রতি বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চাঁই জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেছি। ভবিষৎতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জনসাধারণকেও সচেতন ও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।