মুন্সীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বেকারী পণ্য

vejal-khabar


মোঃ রুবেল ইসলাম, (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

পাড়ার মহল্লার দোকান থেকে শুরু করে নামী- দামি বেকারীতে বিক্রি হচ্ছে বিস্কুট, চানাচুর, কেক,পাউরুটি, মিষ্টি সন্দেশসহ নানা বাহারী মুখরোচক খাবার। কখনো কি কেউ ভেবে দেখেছেএই খাবারগুলো কোথায় থেকে আসছে? কোথায় তৈরী হচ্ছে? কি দিয়ে তৈরী হচ্ছে এসব খাবার? এসব খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রন ও যাচাই করার দায়িত্বে যারা আছেন তারা কি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন? এক কথায় না। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর বিসিক এলাকায় প্রত্যাশা ব্রেড,একে মাষ্টার ব্রেড এন্ড বেকারী,হাওলাদার ব্রেড এন্ড বেকারীসহ ৪টি বিস্কুট ফ্যাক্টরী রয়েছে। এসব  বেকারীগুলোতে তৈরী হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে নানান ধরনের খাবার ।

স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্ননের উপকরন দিয়ে অবাধে তৈরী করা হচ্ছে বেকারী সামগ্রী। কারখানার ভেতরে যেখানে তৈরী খাবার রাখা আছে সেখানেই আটা, ময়দার গোডাউন।রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল এবং একাধিক পাম ওয়েলের ড্রাম। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরী পণ্য । শ্রমিকরা খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা।

ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট,পুডিংসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারী সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। বিএসটিআই ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যেই এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে জেল- জরিমানা করা হয়। এখন তারা আরো বেপোরোয়া গতিতে চালাচ্ছে তাদের পণ্য উৎপাদন। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ শহরের খালইষ্ট এলাকায় ভাই ভাই বেকারী, দক্ষিন ইসলামপুর এলাকায় ধলেশ্বরী ব্রেড এন্ড বিস্কুট, নাজমা বেকারী , ইদ্রাকপুর এলাকায় পনির বেকারী এবং শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার লঞ্চঘাটে আছমা বেকারীসহ প্রায় ১৫ টি বেকারী সামগ্রী তৈরীর কারখানা রয়েছে। তাছাড়া এসব বেকারির মালিকরা বিকল্প বেকারি মোড়কে ২ নম্বর খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন চায়ের দোকানে সর্বরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফজরের পরই কোম্পানির ভ্যানে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, অলিগলির জেনারেল স্টোর ও চায়ের দোকানে ওই সব পণ্য পৌছে দেন ডেলিভারিম্যানরা। শহরের বিভিন্ন চায়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, বিকল্প বেকারির মোড়কে একাধিক পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাইরুটি, বাটারবন, কেক, পেটিস,সিঙ্গারাসহ অন্যান্য খাদ্য পন্য। বিকল্প বেকারীর উৎপাদিত বেকারি সামগ্রী পাউরুটিসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর মোড়কে বিএসটিআই, বিডিএস-৩৮২ নম্বর লেখা রয়েছে। মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লেখা থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরী করা এসব খাবার সামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে।

পেটব্যাথা,শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তারা আরো বলেন,মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক কর্মচারী বলেন,দিনের বেলায় তারা কোন পণ্য উৎপাদন করেন না। ফজরের আগেই পণ্য উৎপাদন শেষ হয়ে যায়। রাতে ভ্রাম্যমান আদালত, র‌্যাব ও পলিশের ঝামেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই শেষ করে থাকে।

চা দোকানি শাহীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, ফুটপাথে চা- পান বিক্রি করে সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নাই। কাস্টমাররা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। প্যাকেট থেকে কোনমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে ওই সব বেকারি সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। প্রত্যাশা বেকারির ম্যানেজার আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমাদের কারখানায় মালিকের হুকুম ছাড়া এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবোন। আপনার পারলে যা কিছু লিখেন গিয়ে। পরে একাধিক কারখানায় গিয়ে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, যেসব কারখানায় অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে ভেজাল খাদ্য তৈরী করেছে ওইসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তাদেরকে খাদ্য আইনে সংশোধন হওয়ার পরামর্শ দিব। খাদ্যনীতিমালা অমান্য করিলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্য্স্থা নেয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার বলেন, যেসকল কারখানায় ভেজাল ও নোংরা পরিবেশে বেকারী পণ্য তৈরী করছে তাদের বিরুদ্ধে এ সাপ্তাহের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।