ধর্ষিতার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই

dhorson
সময়ের কণ্ঠস্বর –    ঢাকার ধামরাইয়ে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ১১ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। অন্যদিকে স্থানীয় মাতব্বররা ধর্ষিতার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই নিয়েছে থানা থেকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য।

মাতব্বররা এজন্য তারা ধর্ষকের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ধর্ষিতা নবযুগ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ঘুষখোর মাতব্বর ও কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক মো. আবদুল মালেক ও শিয়ালকুল গ্রামের সদর আলী মাতব্বর ধামরাই থানায় অভিযোগ প্রত্যহারের জন্য এলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আইনগতভাবে ধর্ষণের ঘটনা গ্রাম্যসালিশে বৈঠকে আপোস অযোগ্য অপরাধ হলেও স্থানীয়রা এ ঘটনায় জোরপূর্বক গ্রাম্য সালিশি বৈঠক করেছে।

এ ব্যাপারে দলিল লেখক আবদুল মালেক ও সদর আলী মাতাব্বর জানান, ধর্ষিতা ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বাবা বরিশাল থেকে এসে এ অঞ্চলে জমি কিনে বাড়ি করেছে। এস্থানে তাদের কোনো আপনজন নেই। কাজেই ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয়া হয়েছে।

মাতব্বরদের দাবি, এলাকায় বসবাসের কথা ভেবেই এ ধর্ষণের ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়। আর মিমাংসা করতে গেলেতো কিছু খরচের ব্যাপার তো আছেই। এনিয়ে লেখালেখি করে কোন লাভ নেই।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতা ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বলেন, ‘আমার নারী জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদটুকু কেড়ে নিয়েছে ধর্ষক চপল। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. শাহীন আলম বলেন, ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ধর্ষিতা মামলা করতে গড়িমসি করায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ রিজাউল হক দীপু বলেন, ‘ভিকটিম অভিযোগ দায়ের করলেও এখন অস্বীকার করছে। কাজেই এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই।’