তনুর মায়ের আকুতি : ‘গরিব বলে কি বিচার পাব না? এভাবে মেরে ফেলবে?’

tonur-ma-1

সময়ের কণ্ঠস্বর – তনুর মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাংলার আকাশ । তনুর মায়ের আকুতি যেন বিচার না পাওয়া লক্ষ কোটি জনতার আকুতি । এভাবেই কি ক্ষমতাবানরা অন্যায় করেও বেঁচে যাবে ? পরাধীন দেশে এমনি করেই অপমান করেছিল আমাদের মা বোনদের , জীবন দিয়ে হলেও আমরা তার প্রতিশোধ নিয়েছিলাম । আজ সময় এসেছে বোনের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার ।

এভাবেই প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিল গতকাল সোমবার কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে  প্রতিবাদ সমাবেশে আসা এক যুবক ।

তনু হত্যার তিন মাস উপলক্ষে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ, কুমিল্লা জেলা শাখা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ সমাবেশ হয়

তিন মাসেও কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর খুনি শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘গরিব বলে কি বিচার পাব না? এভাবে মেরে ফেলবে?’

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তনুর বাবাকে কথা বলতে না করেছে ওরা। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলি না। সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বলি।আমাদের পাহারা দেয় ওরা, আমরা কোন খান দিয়া আডি (হাঁটি)। আমার বড় ছেলে ভয়ে ঢাকা থেকে আসে না। মিডিয়ার সামনে কথা বললে ওরা আমাদের বাসায় থাকতে দেবে না বলে হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী মেয়ের সব স্মৃতি নিয়ে গেছে। ডায়েরি নিয়ে গেছে। ডায়েরির সব পাতা কাইট্টা রাইক্কা দিছে। বাসা থেকে অ্যালবাম নিয়ে গেছে। একটা ছবিও ফেরত দেয়নি, যা দেখে কাঁদব।’

আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ‘সিআইডি সেনাবাহিনীর তিনজনকে যেদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে, সেদিন ওর (তনুর) বাবাকে মারার চেষ্টা করা হয়। ওর বাবার শরীরের ওপর প্রথমে গাড়ি এবং পরে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ওকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

দুই দফা তনুর লাশের ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করতে না পারায় আনোয়ারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এর নেপথ্য কারণ বের করতে ময়নাতদন্তে যুক্ত চিকিৎসকদের তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘ডাক্তারদের আইনের আওতায় আনা হোক। ডাক্তার মিথ্যা কথা বলল কেরে (কেন), ডাক্তার কিছু লেখছে না। হত্যাকারীদের সঙ্গে ডাক্তাররা জড়িত। তাহলে কেন তাদের রক্ষা করল? সিআইডি তাড়াতাড়ি আসামি ধরে না কেরে?’

বক্তৃতার একপর্যায়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তনুর মা। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর বলছেন, নাতিন এখনো মরে নাই। তাঁর বিশ্বাস, তনু ফিরে আসবে। নাতিনের শোকে তিনি অসুস্থ।’ বলতে বলতে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েন আনোয়ারা। মাইক্রোফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেন। পুরো সমাবেশ স্তব্ধ। দুই মিনিট পর তিনি আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে অঝোরে কাঁদলেন। এ সময় সমাবেশ ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়ানো নারী-পুরুষকেও কাঁদতে দেখা যায়।
কান্না শেষে তনুর মা বললেন, ‘আমি খুনিদের বিচার চাই।’
প্রতিবাদ সমাবেশে স্লোগান ওঠে, ‘তনুর মা কাঁদছে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’।