অধ্যক্ষের নির্দেশেই নরসিংদী সরকারি কলেজে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার ভর্তিবানিজ্য

nsd gov clg - small

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: ভর্তি বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও নরসিংদী সরকারি কলেজে তা মানা হচ্ছে না। অধ্যক্ষের নির্দেশেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দেশিকা ও ভর্তি ফরমের নামে রশিদ দিয়ে অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, অভিযোগের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশের সব কলেজেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় নরসিংদী সরকারী কলেজেও আদায় করা হচ্ছে বলে দাবী করেন কলেজটির অধ্যক্ষ আনোয়রুল ইসলাম। এসময় তিনি সংবাদটি প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যপারে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, অধ্যক্ষ ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়কের নির্দেশেই অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪১০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১১২০টি ও মানবিক বিভাগে ৮২০টি আসন রয়েছে। প্রতি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ১০০ টাকা করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আদায়ের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিধিমালা অনুযায়ী মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তি কমিটির কাছ থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে। পরে কলেজের নির্ধারিত ফি মোবাইল ব্যাকিং শিওর ক্যাশের মাধ্যমে জমা দেয়। শিওর ক্যাশের আইডি নম্বর দিয়ে প্রয়োজন কাগজপত্রসহ কলেজ ক্যাশ কাউন্টারে জমা দিয়ে শ্রেণি রোল নম্বর সংগ্রহ করে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৩১৭ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২ হাজার ২১৭ টাকা ও মানবিক বিভাগের ২ হাজার ২১৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ভর্তি হতে গেলে আলাদা ভাবে ক্যাশ কাউন্টারে ১০০ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যা বোর্ডের ভর্তি নির্দেশনা পরিপন্থী। কলেজের দেয়ালে ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাশ কাউন্টারে ১০০ টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হলেও এতে অধ্যক্ষের কোনো স্বাক্ষর নেই।

ভর্তি হতে আসা এক শিক্ষার্থী জানায়, `১০০ টাকা জমা দিয়ে রশিদ কেটে ফরম কিনেছি। পরে কলেজের নির্ধারিত ২০৭৭ টাকা শিওর ক্যাশের মাধ্যমে জমা দিয়েছে।’

দ্বাদশ শ্রেণির অপর এক শিক্ষার্থী জানায়, `গত বছর আমরা এই অতিরিক্ত ফি দেইনি। এবার কি কারণে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছিনা। অধ্যক্ষ স্যারের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে তিনি আমাদের কোনো কথা শুনতে রাজি হননি।’

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভর্তির ফরম ও কলেজের তথ্য বিবরণী এর জন্য এই ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর বিষয়টি অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, `শিক্ষার্থীদের ভর্তি নির্দেশিকা ও ফরম বাবদ এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সব কলেজেই এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ আদায়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে উল্লেখ না থাকায় এটা বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি বিব্রত হবেন বলে সাংবাদিকদের প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।’