আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা: ১১ আসামির খালাসের রায় স্থগিত

ansarulla

সময়ের কণ্ঠস্বর- আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আপিলে ১১ আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে ওই দিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের করা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১১ আসামির খালাসের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ১৫ জুন হাইকোর্ট আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করে। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার না থাকলে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

এই ১১ আসামি হলেন, আমীর, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, মেহের আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), লোকমান হোসেন বুলু, রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক) ও দুলাল মিয়া, রকিবউদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আয়ুব আলী ও মনির। শেষের তিন জন আসামি যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। বাকিরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। হাইকোর্টের খালাসের এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ এই আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে।

ঘটনার পরদিন তার ভাই মতিউর রহমান বাদি হয়ে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০০৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এ হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

ঐ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় হাইকোর্ট।