কালকিনিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী খাল দখলের অভিযোগ

এইচ এম মিলন, কালকিনি প্রতিনিধি:


kalkini.jpgghal

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও এক হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোঃ কামরুল আহসান সেলিম গত ১৮ই জুন শপথ গ্রহনের পর শুরু হয়েছে তার সরকারি জমি দখলের মহাউৎসব। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কালকিনি-মোল্লার হাট সড়কের সাহেব রামপুরের ঐতিয্যবাহী আন্ডারচর-সাহেব রামপুরের মাঝের সরকারী খালে বাঁধ দিয়ে মার্কেট করার জন্য এ সরকারী খাল দখল করে নিয়েছে বলে আজ মঙ্গলবার সকালে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ঐ খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার চাষিদের হাজার- হাজার বিঘার জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এনিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা চড়ম বিপাকে পরেছেন।

এ ব্যাপারে সাহেব রামপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (তহসিলদার) মোঃ আঃ মান্নান মিয়া জানায় সরকারী খাল ভরাট করার অপরাধে একটি মামলা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত সাহেব রামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান সেলিম বলেন, সরকারী ভাবে একটি টলঘর বরাদ্দ হয়েছে বিধায় আমি খালে বাধ দিয়ে মাটি ভরাট করছিলাম কারন খালটি ব্যবহার হয়না। এখন মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাম্মী আক্তার বলেন, সরকারী সম্পত্তি যদি কেউ দখল করে মাটি ভরাট করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় তহসিলদারকে মামলা দেয়ার জন্য বলে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে মনির বেপারী, মোহাম্মদ সরদার ও হেল্লাল শিকদার সহ অর্ধশতাধিক কৃষক বলেন, এই খালে বাঁধ দেয়ার ফলে আমাদের জমির ফসল ও নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জনবহুল আন্ডারচর-সাহেব রামপুরের মাঝের সরকারী খালটি বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসী ধান, পাট ও মেসতা সহ বিভিন্ন সামগ্রী নৌকা যোগে বহন করার সময় এ খালটি ব্যবহার করে থাকেন। এবং কি এ খালের পানি জমিতে ফসল ফলানোর জন্য কৃষকেরা ব্যবহার করে থাকেন। হঠাৎ সেলিম চেয়ারম্যানের নির্দেশে ১৯ জুন রবিবার সকালে একদল মাটি কাটা শ্রমিক সরকারী খাস খালটি মাঝে বাঁধ দিয়ে ভরাট করেছেন। এ ঘটনা দেখে গ্রামবাসী বাঁধা দিতে গেলে শ্রমিকরা জানায় তাদেরকে চেয়ারম্যান মাটি কাটতে বলেছেন। নির্বাচনে দেয়া ইসতেহার হিসেবে খালের মাঝে ভরাট করে একটি টলঘর নির্মান করবেন বলে তার ঘোষনা দেয়া ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমি খেকো চেয়ারম্যানের আগে থেকেই ঐ জমির উপর একটি মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ৭ই মে ইউপি নির্বাচনে এক ব্যবসায়ীকে রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করায় কামরুল আহসান সেলিমকে প্রধান আসামী করে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঐ মামলার আসামী হয়েও সরকার দলীয় প্রার্থী হওয়ায় তাকে পুলিশ আটক করতে পারেনি বিধায় তিনি বেপরোয়া হয়ে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই সরকারী খাস খালটি দখল করে মার্কেট নির্মানের জন্য মাটি দিয়ে ভরাট করান।